India-Bangladesh Water Treaty : 'গঙ্গার এক বিন্দু ন্যায্য জলও ছাড়া হবে না', বাংলাদেশ থেকে ভারতকে হুঁশিয়ারি

গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি। আগামী ১২ ডিসেম্বর এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৩০ বছরের জন্য এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

Advertisement
'গঙ্গার এক বিন্দু ন্যায্য জলও ছাড়া হবে না', বাংলাদেশ থেকে ভারতকে হুঁশিয়ারি  বাংলাদেশ জলবণ্টন চুক্তি
হাইলাইটস
  • বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়
  • সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকে একাধিক বিষয়ে সমঝোতা হয় বাংলাদেশের

বাংলাদেশে ভারতের ট্রানজিট করিডর তৈরি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিলেন সেই দেশের বিরোধী নেতা নাহিদ ইসলাম। বাংলাদেশের উপর দিয়ে ভারতের জন্য কোনও ট্রানজিট করিডর তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি পুনর্নবীকরণ নিয়েও সরব হয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক। তাঁর দাবি, ভারতের সঙ্গে এমন জলচুক্তি করতে হবে, যাতে গঙ্গার জলে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষিত থাকে। তা না হলে ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ঢাকায় একটি জনসভা থেকে এই মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো এবং বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার বাংলাদেশের উপর দিয়ে ভারতের জন্য একটি ট্রানজিট করিডর তৈরির পথ প্রশস্ত করার চেষ্টা করছে। নাহিদের কথায়, বাংলাদেশ কোনওভাবেই এই ধরনের করিডর মেনে নেবে না।

বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাহিদ বলেন, 'জাপান আবার বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে একটি করিডর তৈরির চেষ্টা করছে। সরকার ভারতের হাতে এই বেআইনি করিডর তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশের মানুষ এই ধরনের কোনও বেআইনি করিডর মেনে নেবে না।' 

প্রসঙ্গত, গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফরে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকে একাধিক বিষয়ে সমঝোতা হয় বাংলাদেশের। বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক যোগাযোগ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো বিষয়গুলিতে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় দুই দেশ।

বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়। এর পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর উন্নয়নেও সহযোগিতা করছে জাপান। জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা (JICA)-র আর্থিক সহায়তায় এই প্রকল্পের কাজ চলছে।

Advertisement

তবে তারেক রহমানের জাপান সফরে কোনও তৃতীয় দেশকে নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক। শুক্রবার বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, জাপান সফরে অন্য কোনও দেশকে নিয়ে আলোচনা করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। অন্য কোনও দেশকে নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন হলে সেই দেশের প্রতিনিধিদেরও বৈঠকে উপস্থিত থাকতে হবে।

অন্যদিকে, ২৮ অক্টোবর ভারতও জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা দেয়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, জাপানের সঙ্গে ভারতের অত্যন্ত শক্তিশালী অংশীদারিত্ব রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে জাপানের যোগাযোগ ও বিভিন্ন যৌথ উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করতে চায় নয়াদিল্লি।

গঙ্গার জলচুক্তি নিয়েও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন নাহিদ ইসলাম। সেটি হল গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি। আগামী ১২ ডিসেম্বর এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৩০ বছরের জন্য এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ফরাক্কা ব্যারাজে গঙ্গার জল বণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতা কার্যকর হয়। মূলত জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত শুষ্ক মরসুমে জল বণ্টনের বিষয়টি এই চুক্তির আওতায় রয়েছে।

নাহিদের দাবি, নতুন করে চুক্তি হলে সেখানে বাংলাদেশের ন্যায্য জলপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের প্রাপ্য জল থেকে এক বিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাহিদ বলেছেন, গঙ্গার জলচুক্তি ন্যায্য শর্তে পুনর্নবীকরণ না হলে বাংলাদেশের মানুষ রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবেন।

উল্লেখ্য, গঙ্গার জলবণ্টন নিয়ে নতুন বা সংশোধিত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে শুষ্ক মরসুমে বাংলাদেশের প্রাপ্য জল নিশ্চিত করতে চুক্তিতে একটি সুরক্ষা বা গ্যারান্টি ক্লজ রাখার দাবি রয়েছে। ১৯৭৭ সালের জলচুক্তিতে এই ধরনের একটি শর্ত ছিল বলে উল্লেখ করছে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে, ভারতের বক্তব্য, বাংলাদেশের সঙ্গে নদী ও জলবণ্টন সংক্রান্ত যাবতীয় আলোচনা দ্বিপাক্ষিক যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। ফলে গঙ্গার জলচুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
 

POST A COMMENT
Advertisement