তারেক রহমান, নরেন্দ্র মোদী এবং শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর নিয়ে ফের জটিলতা। সৌজন্যে বিএনপি পরিচালিত সরকার। আজ সেই দেশের সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, তারেকের দিল্লি সফরের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্যও ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। আর এই বার্তা থেকেই মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশ হয়তো হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে চাপ তৈরি করতে চাইছে। তারা হয়তো এও বলতে চাইছে, হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরালে তবেই তারেক আসবেন।
প্রসঙ্গত, তারেক রহমানের ভারতে আসার ব্যাপারে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দুই দেশের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে। গত সোমবার ঢাকায় তারেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী। মঙ্গলবার তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন। তখন প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল হয়তো তারেক খুব তাড়াতাড়ি ভারতের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আসবেন। তবে তেমন সম্ভবনা যে কম তা আজ পরিষ্কার করে দেয় বাংলাদেশ বিদেশমন্ত্রক।
রবিবার দুপুরে বিদেশমমন্ত্রকের মুখপাত্র এ কে এম শহিদুল আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেন, ,হাসিনার প্রত্যপর্ণের সঙ্গে তারেকের ভারত সফরের বিষয়টি এক সুতোয় গাঁথতে চাইছেন তাঁরা। তিনি এই বিষয়ে আজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'আমরা এই বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা মনে করি, এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীকে দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। আমরা তাদের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছি।' যদিও ভারতের তরফে এই নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
তিনি আরও জানান, তারেক রহমানের ভারত সফরের ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগোচ্ছিল। কিন্তু গত ৫ অগাস্ট হাসিনা ভারত থেকে যে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন, সেজন্য তাঁরা ক্ষুব্ধ। বলেন, 'আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা গত ৫ অগাস্ট দিল্লিতে যে ভাবে প্রকাশ্য সাংবাদিক সম্মেলনে কথা বলেছেন, তাতে এই প্রক্রিয়ার পরিবেশ বিনষ্ট হয়ে।'
এর আগে শেখ হাসিনা একাধিকবার জানিয়েছেন, তিনি এই বছরই বাংলাদেশে ফিরবেন। প্রাণের সঙ্কট নিয়েও দেশে যাবেন। পাল্টা সরকার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, আওয়ামি লিগ নেত্রী ফিরলে তাঁকে হয়তো আত্মসর্পণের সুযোগও দেওয়া হবে না। তারপরই গত ৫ অগাস্ট সাংবাদিক বৈঠক করে বিএপিকে আক্রমণ করেন মুজিব-কন্যা।
এদিকে এক ভারতীয় শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে আদালতই চৃড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। আইনি প্রক্রিয়াতেই সবটা স্থির হবে।