বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বাংলাদেশের ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম। ভারত সাহায্য করেছে। তার বলেই নাকি ক্ষমতায় BNP। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বাংলাদেশের ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম। তাঁর এই দাবিকে কেন্দ্র করেই ফের উত্তপ্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল।
ভারতের সঙ্গে ‘সমঝোতা’র অভিযোগ
সম্প্রতি এক রাজনৈতিক সভায় এই দাবি করেন নাহিদ। বলেন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (BNP) নির্বাচনে জিততে ভারত এবং আওয়ামী লিগের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করেছে। উল্লেখ্য, আওয়ামী লিগ বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল। দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিল তারা। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে আওয়ামী লিগ অংশ নেয়নি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, 'ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করতে গিয়ে যদি ফের আওয়ামী লিগকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়, তা হলে দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।' তাঁর অভিযোগ, এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজির অংশ হতে পারে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের নির্বাচনী সমীকরণ প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
আওয়ামী লীগের অফিস খোলা নিয়ে বিতর্ক
নাহিদ ইসলামের আরও অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন জেলায় ফের আওয়ামী লিগের অফিস খোলা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এগুলিকে নিছক সাংগঠনিক পদক্ষেপ ভাবলে ভুল হবে। বরং এর পিছনে বড় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
নাহিদ ইসলাম জানান, 'সরকার যদি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তার সম্পূর্ণ দায় তাদের নিজেদেরই নিতে হবে।' শুধু তাই নয়। তিনি এটাও বলেন যে, যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে, তা হলে তাঁদের দল বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনের পথে হাঁটতে পারে।
নির্বাচনের ফল নিয়েও অভিযোগ তুললেন নাহিদ
সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, নির্বাচনের ফলাফল তাঁদের 'সন্দেহজনক' বলে মনে হয়েছে। তাঁর মতে, ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল। প্রকৃত জনমত প্রতিফলিত হয়নি।
তিনি বলেন, 'যেভাবে ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, তাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।' তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
এহেন পরিস্থিতিতে, সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির সত্যতা সামনে আনতে হবে।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই অভিযোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।