Bangladesh এ শিক্ষক-পরিবার খুনের তদন্তে বড় মোড়! ভয়ানক তথ্য পেল পুলিশ

রংপুরে হিন্দু শিক্ষক-সহ পরিবারের ৪ জনকে খুন! মাদক নিতে গিয়ে ধরা পড়ে ভয়ঙ্কর কাণ্ড, হত্যার পরও বাড়িতেই ছিল অভিযুক্তেরা

Advertisement
Bangladesh এ শিক্ষক-পরিবার খুনের তদন্তে বড় মোড়! ভয়ানক তথ্য পেল পুলিশসবচেয়ে অদ্ভুত বিষয়টি হল, এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পরেও অভিযুক্তরা বেশ কয়েক ঘণ্টা ওই বাড়িতেই ছিল।
হাইলাইটস
  • রংপুরে শিক্ষক-সহ একই পরিবারের চার সদস্যের খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।
  • বাড়ির ছাদে বসে মাদক সেবন করতে গিয়ে ধরা পড়ে গিয়েছিল দুই যুবক।
  • নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পরেও অভিযুক্তরা বেশ কয়েক ঘণ্টা ওই বাড়িতেই ছিল।

Rangpur Murder Case: বাংলাদেশের রংপুরে শিক্ষক-সহ একই পরিবারের চার সদস্যের খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। পুলিশের দাবি, বাড়ির ছাদে বসে মাদক সেবন করতে গিয়ে ধরা পড়ে গিয়েছিল দুই যুবক। এর পরেই গোটা পরিবারের সকলকে একে একে তারা খুন করে বলে অভিযোগ। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয়টি হল, এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পরেও অভিযুক্তরা বেশ কয়েক ঘণ্টা ওই বাড়িতেই ছিল। সেখানেই খাওয়াদাওয়া করেছে। এমনকি বাথরুমে ঢুকে স্নানও সেরেছে। তদন্তে উঠে এসেছে এমনই একাধিক তথ্য।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী(২৩) এবং ১২ বছরের ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী। ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের নাম মুগ্ধ এবং সিদ্ধার্থ। তাঁরা সম্পর্কে তুতো ভাই বলে জানা গিয়েছে।

ছাদে মাদক সেবন, তারপরেই খুন!
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে পাশের একটি বাড়ির ছাদ হয়ে গণপতিদের বাড়ির ছাদে উঠেছিল অভিযুক্তরা। সেখানে তারা 'ইয়াবা' নামের এক নিষিদ্ধ মাদক নিচ্ছিল বলে পুলিশের দাবি। বিষয়টি টের পেয়ে ছাদে উঠে আসেন গণপতি। তাঁদের বকাবকি শুরু করেন।

পুলিশের অভিযোগ, গণপতি অভিযুক্তদের চিনে ফেলতে পারেন, এই আশঙ্কা থেকেই তাঁর গলায় গামছা জড়িয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। ছাদে ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা সেখানে উঠে আসেন। তখন তাঁকেও সিঁড়িতেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।

এর পর তাঁদের মেয়ে আগামী এবং ছেলে প্রিয়মকেও খুন করা হয়। পুলিশের অনুমান, অভিযুক্তদের পরিচয় ফাঁস হয়ে যেতে পারে, এই আশঙ্কাতেই প্রিয়মকে নিশানা করা হয়ে থাকতে পারে। ওই কিশোরের সঙ্গে অভিযুক্তদের এক ভাইয়ের বন্ধুত্ব ছিল বলেও তদন্তকারীদের দাবি।

খুনের পরেও বাড়িতেই ৬-৭ ঘণ্টা!
ঘটনার পর অভিযুক্তরা সঙ্গে সঙ্গে পালায়নি বলেই তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। বরং প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা তারা ওই বাড়িতেই ছিল বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, বাড়ির ফ্রিজ থেকে শসা বের করে খেয়েছিল তারা। খেজুরও খেয়েছিল। পরে বাড়ির বাথরুমেই স্নান করে।

Advertisement

তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে একাধিক সূত্র পেয়েছেন। সেই সূত্র ধরেই অভিযুক্তদের শনাক্ত করা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মহম্মদ আব্দুল মাবুদ। পুলিশের আরও দাবি, বাড়িতে মাদক সেবনেরও প্রমাণ মিলেছে।

তালাবন্ধ বাড়ি থেকে চার দেহ উদ্ধার
শনিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ রংপুর শহরের দাসপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে চার জনের দেহ উদ্ধার হয়। বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবন্ধ ছিল। ছাদ থেকে গণপতির দেহ উদ্ধার হয়। সিঁড়িতে পড়ে ছিল প্রীতিলতা এবং আগামীর দেহ। অন্য দিকে, বাড়ির ভিতরে একটি খাটের নিচে প্রিয়মের দেহ পাওয়া যায়।

পরিবারের চারজনের মোবাইল ফোন বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বন্ধ থাকায় আত্মীয়দের সন্দেহ হয়। শনিবার রাতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে আত্মীয়েরা বাড়িতে যান। তখনই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

গণপতি গত বছর ৩১ ডিসেম্বর রংপুর জেলা স্কুল থেকে অবসর নিয়েছিলেন। তাঁর মেয়ে আগামী চলতি বছর রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে MA পাশ করেছিলেন। ছেলে প্রিয়ম রংপুর জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় দুই অভিযুক্ত খুনের কথা স্বীকার করেছে। তবে গোটা ঘটনার পিছনে আর কেউ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে কারও পুরনো শত্রুতা ছিল কি না, সেই বিষয়টিরও তদন্ত করছেন আধিকারিকেরা।

POST A COMMENT
Advertisement