Bangladesh Referendum Result: বাংলাদেশেও ভারতের মতো 'রাজ্যসভা'? 'হ্যাঁ' ভোট বাড়লেই PM-এর ক্ষমতায় কাটছাঁট

এতদিন বাংলাদেশে এক কক্ষবিশিষ্ট সংসদ ছিল। জুলাই সনদ অনুযায়ী, এবার গঠিত হবে উচ্চকক্ষ, ভারতের আদলে এক ধরনের রাজ্যসভা।

Advertisement
বাংলাদেশেও ভারতের মতো 'রাজ্যসভা'? 'হ্যাঁ' ভোট বাড়লেই PM-এর ক্ষমতায় কাটছাঁটমহম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমান।-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন ও গণভোট দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল।
  • শুধু নতুন সরকার বা নতুন নেতৃত্বই নয়, সংবিধান সংশোধনের পক্ষে বিপুল সমর্থন দেশের শাসনব্যবস্থাকেই নতুন পথে নিয়ে যেতে চলেছে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন ও গণভোট দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল। শুধু নতুন সরকার বা নতুন নেতৃত্বই নয়, সংবিধান সংশোধনের পক্ষে বিপুল সমর্থন দেশের শাসনব্যবস্থাকেই নতুন পথে নিয়ে যেতে চলেছে। গঠিত হবে উচ্চকক্ষ বা ‘রাজ্যসভা’, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমবে, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়বে এবং সাংসদরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলীয় নির্দেশের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন।

‘জুলাই সনদ’-এ সায়
১২ ফেব্রুয়ারি নাগরিকেরা দুটি ভোট দেন, একটি সরকার গঠনের জন্য, অন্যটি সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত গণভোটে। ‘জুলাই সনদ’ নামে পরিচিত এই প্রস্তাবে মোট ৮৪টি সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। ফলাফলে দেখা যায়, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস একে “নতুন বাংলাদেশের জন্ম” বলে অভিহিত করেছিলেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন এই সংস্কার বাস্তবায়নের কঠিন দায়িত্বে।

কী কী বদল আসছে?
দ্বিকক্ষ সংসদ ও রাজ্যসভা
এতদিন বাংলাদেশে এক কক্ষবিশিষ্ট সংসদ ছিল। জুলাই সনদ অনুযায়ী, এবার গঠিত হবে উচ্চকক্ষ, ভারতের আদলে এক ধরনের রাজ্যসভা।

প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষে থাকবে ১০০ জন সদস্য। সাধারণ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে দলগুলিকে আসন দেওয়া হবে। সাংবিধানিক সংশোধনের ক্ষেত্রে দুই কক্ষের সম্মতি বাধ্যতামূলক হবে, ফলে একক দলের পক্ষে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হবে।

সংবিধান সংশোধনের নতুন নিয়ম
সংবিধান বদলাতে নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ও উচ্চকক্ষে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে। রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের ক্ষেত্রেও দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগবে।
এছাড়া নিম্নকক্ষের ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দলের হতে হবে, এতে বিরোধী পক্ষের ভূমিকা আরও প্রাতিষ্ঠানিক হবে।

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদে সীমা
একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দলীয় প্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারবেন না, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ রুখতেই এই পদক্ষেপ।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি
বর্তমানে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করেন। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নিজস্ব ক্ষমতায় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশনে নিয়োগ দিতে পারবেন।

Advertisement

দলীয় লাইনের বাইরে ভোট
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাংসদদের দলীয় লাইনের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় এই বিধিনিষেধ উঠে যাবে। ফলে সাংসদরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও ভোট দিতে পারবেন।

জরুরি অবস্থা ঘোষণায় নতুন বিধি
জরুরি অবস্থা জারির জন্য শুধু প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত যথেষ্ট হবে না। মন্ত্রিসভা এবং বিরোধী দলীয় নেতা-উপনেতার সম্মতি লাগবে। পাশাপাশি জরুরি অবস্থায় মৌলিক অধিকার স্থগিত রাখা যাবে না।

নারীদের সংরক্ষণ ও নির্বাচন কমিশনের স্বায়ত্তশাসন
সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসন বাড়ানো হবে। নির্বাচন কমিশনকে আরও স্বাধীন ও শক্তিশালী করা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবনের কথাও বলা হয়েছে।

বাস্তবায়ন কীভাবে?
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর একটি সাংবিধানিক সংশোধনী পরিষদ গঠিত হবে। নির্বাচিত সাংসদরাই এর সদস্য হবেন। গণভোটের রায় অনুযায়ী, প্রথম অধিবেশনের ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিলমোহর পাওয়া এই পরিবর্তনগুলি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং জবাবদিহি শক্তিশালী করাই এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য। এখন দেখার, বাস্তবায়নের পথে কতটা সফল হয় নতুন নেতৃত্ব।

 

POST A COMMENT
Advertisement