ঈদকে সামনে রেখে কঠোর বিধিনিষেধ ৮ দিনের জন্য শিথিল করেছে বাংলাদেশ সরকার। সারা দেশে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহন চলতে শুরু করেছে। করোনা সংক্রমণের কারণে ১৭ দিন বন্ধ থাকার পর অর্ধেক যাত্রী আর বর্ধিত ভাড়া নিয়ে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে চলতে শুরু করে গণপরিবহন।
ঈদে বাড়ি ফিরতে চাইছেন অনেকেই। তাই বুধবার সকাল থেকেই ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এই এক সপ্তাহ সারা দেশে ৩৮ জোড়া আন্ত নগর ও ১৯ জোড়া লোকাল ট্রেন চলাচল করবে। অর্ধেক আসনের সব টিকিটই অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। এদিন থেকে বেসরকারিভাবে বিভিন্ন রুটে ৭০টি লঞ্চ ও স্টিমার ঢাকা থেকে ছেড়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া বিআইডাব্লিউটিসির আওতায় চারটি স্টিমার ও ৫৩টি ফেরি চলাচল করছে। বুধবারই নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ বলেন, 'সব নৌযানে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক ছাড়া নৌবন্দর এলাকায় ও লঞ্চে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিভিন্ন ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।'
গত ২৮ জুন থেকে সীমিত এবং ১ জুলাই থেকে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধি-নিষেধ শুরুর দিন থেকেই বাংলাদেশে বন্ধ ছিল গণপরিবহন চলাচল। তবে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত আটদিন বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। এই অবস্থায় ঈদ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে সেদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতর। আ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, আমরা যারা স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রকে আছি, বিধিনিষেধ শিথিল হলে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করি। কিন্তু সরকার যে নির্দেশ দেয়, আমাদের সেটা মানতে হবে। এ জন্য ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধির প্রতিই আপাতত নজর দিচ্ছি। লকডাউন শিথিলের ঘোষণায় সংক্রমণের হার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও।
এদিকে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৩৩৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ২২৬ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দেশটিতে দাঁড়াল ১৭ হাজার ২৭৮ জন। এখন পর্যন্ত প্রতিবেশী দেশটিতে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০ লাখ ৭১ হাজার ৭৭৪ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখ ৫ হাজার ৮০৭ জন।