বাংলাদেশে বিদ্যুত্ বিপর্যয়ের আশঙ্কাইরান যুদ্ধে অস্থির পরিস্থিতি পশ্চিম এশিয়ায়। যার সরাসরি প্রভাবের প্রমাদ গুনছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে বিদ্যুত্ ও জ্বালানিতে ঘোরতর সঙ্কট দেখা দিতে পারে যে কোনও মুহূর্তে। যার নির্যাস, বাংলাদেশ সরকার সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিল বিদ্যুত্ ও জ্বালানি বাঁচানোর জন্য।
আপাতত সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ
বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই নোটিশ জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, মূলত বিদ্যুত্ বাঁচানো ও জ্বালানির বাঁচানোর জন্যই এই পদক্ষেপ। ইদ উল ফিতরের শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী আপাতত সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। গ্লোবাল এনার্জি সাপ্লাই নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ। তাই দেশে বিদ্যুত্ ও জ্বালানি বাঁচাতে আরও পদক্ষেপ করা হবে বলে পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ।
দেশজুড়ে বিদ্যুত্ ঘাটতির প্রমাদ গুনছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশে সদ্য দায়িত্ব নিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (BNP)। ক্ষমতায় আসতেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। ইরানের যুদ্ধের জেরে দেশজুড়ে বিদ্যুত্ ঘাটতির প্রমাদ গুনছে বাংলাদেশ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে জ্বালানি ব্যবহার কমাতেও কঠোর নীতি জোরদার করছে তারেক। সরকার আশঙ্কা করছে, এই সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ বাংলাদেশের উপরও।
গণপরিবহণ বেশি ব্যবহার করার পরামর্শ
সরকার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযমের আহ্বান জানিয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রকের নির্দেশিকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমাতে এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। ঢাকায় বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে আতঙ্কে জ্বালানি কেনার প্রবণতা দেখা যাওয়ায় এই নির্দেশ জারি করা হয়। কয়েকটি পাম্পের মালিক জানান, গত সপ্তাহে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায় এবং অনেক চালককে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। সরকারি নির্দেশে বিদ্যুৎ অপচয় কমানো, অপ্রয়োজনীয় আলো ব্যবহার না করা এবং গণপরিবহণ বেশি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, আপাতত দেশের জ্বালানির মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই আগেভাগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করছে বাংলাদেশ সরকার।