ভারতীয়দের ভিসা দিচ্ছে না বাংলাদেশবাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন তলানিতে। নিয়ম করে সেই দেশ থেকে হিন্দু নিধনের খবর আসছে। পাশাপাশি ভারত বিরোধীতাও চলছে জোর কদমে। আর এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই মহম্মদ ইউনূস সরকারের তরফ থেকে ভারতীয়দের জন্য পর্যটক সহ আরও কিছুটা ধরনের ভিসা বন্ধ করা হয়েছে। শুধু ব্যবসা এবং চাকরির ভিসা দেওয়া হচ্ছে।
আসলে ভারতে ৬টি মিশন চলে বাংলাদেশের। নয়াদিল্লিতে রয়েছে হাই কমিশন। ডেপুটি হাই কমিশন রয়েছে কলকাতায়, চেন্নাই এবং মুম্বইতে। আর আগরতলা এবং গুয়াহাটিতে রয়েছে অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশন।
এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মিশনের এক আধিকারিক টাইমস অব বাংলাদেশের তরফে জানিয়েছেন, ভারতীয়দের অধিকাংশ ভিসা দেওয়ার কাজই এখন বন্ধ। তিনি বলেন, 'ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া এখন বন্ধ। শুধু ব্যবসার এবং চাকরির জন্য ভিসা দেওয়া হচ্ছে। ডিসেম্বর ২০ থেকেই দিল্লির হাই কমিশন থেকে ভিসা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। উচ্চতর কর্তৃপক্ষের তরফেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'
আসলে বাংলাদেশের জুলাই-অগাস্ট অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ সরকার। তারপর থেকেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে গিয়েছে বাংলাদেশের। ইতিমধ্যে ভারতও খুব বুঝেশুনে বাংলাদেশিদের ভিসা দিচ্ছে। আর সেই সুযোগেই একবারে ভিসা দেওয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল মহম্মদ ইউনূস সরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়েছিলই। তবে ময়মনসিংহে হিন্দু দীপু দাসের হত্যার পর থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে যায়। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ থেকে শুরু করে বজরং দল বাংলাদেশ কমিশনের বাইরে বিক্ষোভ দেখায়। এই কারণে নিরাপত্তার সমস্যা দেখা দেয় বলে বাংলাদেশের বক্তব্য।
যদিও এরপর বিএনপি-এর চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সেই দেশে যান ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি খালেদা পুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে শোকবার্তাও দেন। তারপরও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি।
এরই মধ্যে আবার হিন্দু নিধনের প্রতিবাদে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে কেকেআর থেকে বাদ দেওয়ার দাবি ওঠে ভারতে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে বুঝেই বিসিসিআই মুস্তাফিজুরকে ছেড়ে দিতে বলে। এরপর বাংলাদেশ সরকারের তরফে আইপিএল ব্যান করা হয়। পাশাপাশি টি২০ বিশ্বকাপ ভারতে না খেলতে চেয়ে বার্তাও দেয়। এরপর থেকেই অবস্থার আরও অবনতি হয়।
এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের প্রাক্তন কূটনীতিক বলেন, 'বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ভোট জেতার জন্য উঠে পড়ে লেগে পড়েছে। অ্যান্টি বাংলাদেশ ন্যারেটিভ হয়ে উঠেছে প্রধান। এটাই হিন্দু ভোট পাওয়ার অন্যতম অস্ত্র।' তাই তিনি মনে করেন পশ্চিমবঙ্গে ভোট না হওয়া পর্যন্ত এই অস্থিরতা কাটার নয়।