হাসিনার পুলিশকর্তার মৃত্যুদণ্ড ঢাকায় ২০২৪ সালে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিরাট রায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের। সেই আন্দোলনের সময় সহিংসতার অভিযোগে ঢাকার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার এবং আরও ২ পুলিশকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত। বিচারপতি মহম্মদ গোলাম মর্তুজার নেতৃত্বে তিন বিচারকের প্যানেল এই রায় দেয়।
এর আগে এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছিল। এবার মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হল প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির প্রাক্তন প্রাক্তন যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার মোহম্মদ আখতারুল ইসলামকে।
রায়ে আদালত বলেছে, 'ওই তিনজন দোষী। তাঁরা তাঁদের অধস্তনদের নিয়ন্ত্রণ করতেন ও নির্দেশ দিতেন। তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।'
ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে,পুলিশের কাজ ছিল জনগণের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। কিন্তু আধিকারিকদের নির্দেশে পুলিশ যেভাবে সাধারণ ছাত্র ও নাগরিকদের উপর গুলি চালিয়েছে, তা মানবতাবিরোধী অপরাধ। সেজন্য ঢাকার পুলিশ কমিশনার কোনওভাবেই দায় এড়াতে পারেন না।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল ঢাকার সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহম্মদ ইমরুলকে ৬ বছর, পরিদর্শক আরশাদ হোসেনকে ৪ বছর এবং তিন কনস্টেবলকে তিন বছরের সাজা শোনায়।
তবে যাঁদের ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছে তাঁদের পলাতক ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁদের অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন বিচারকরা।
যদিও কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা নিয়ে খুশি নন আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের বিডির প্রধান প্রসিকিউটর মহম্মদ তাজমুল ইসলাম। তাঁর দাবি, অনেক কম সাজা দিয়েছে আদালত। সেক্ষেত্রে আরও বেশি সাজার জন্য আবেদন করা হতে পারে।