বালাদেশে পুজোয় এবার নজরদারিতে বিশেষ মোবাইল অ্যাপক্ষমতায় বসে প্রথম দুর্গাপুজোতেই দেশের সংখ্যালঘুদের মন জয়ের চেষ্টা করেছেন তারেক রহমান। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে পুজোর জন্য প্রতিবছর নির্দিষ্ট অঙ্কের বরাদ্দ করা হয়। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দুর্গাপুজোর জন্য চার কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে পুজো উপলক্ষে। পাশাপাশি অন্য বছরের তুলনায় এ বারে বাংলাদেশে দুর্গাপুজো বেড়েছে বলেই প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে।
১৫০০ বেশি মণ্ডপ
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপুজো উপলক্ষে বাংলাদেশে এবার ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে পুজো উদযাপিত হবে, যা গত বছরের তুলনায় ১৫০০ বেশি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ধর্মীয়-সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকায় পুজো উদযাপনকারীরা নিরাপদ বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, পুজো মণ্ডপগুলোতে পুলিশের মনিটরিং থাকবে এবং পুজো চলাকালে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ও দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিমূলক এক বৈঠক হয়। তারপরেই বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমকে একথা জানান।
এই বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পুজো উদযাপন পরিষদ, পুজো ফ্রন্ট, কল্যাণ ট্রাস্ট, মহানগর সার্বজনীন পুজো কমিটিসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্গাপুজো উপলক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও বিশেষ এলার্ট বা ঝুঁকির তথ্য পাওয়া যায়নি। উৎসবমুখর পরিবেশে পুজো উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, গত বছর দেশে ৩২ হাজার ৩৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার আগের বছরগুলোতে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ২৮ হাজার। এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ হাজার ৮৫১টিতে দাঁড়িয়েছে।
নজরদারিতে বিশেষ মোবাইল অ্যাপ
পুজোমণ্ডপের নিরাপত্তা ও ঝুঁকি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত কোনও মণ্ডপ ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে কোথাও ঝুঁকি মনে হলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিমা ভাঙচুরের খবর প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত প্রতিমা ভাঙচুরের কোনও প্রকৃত ঘটনা নেই, এগুলোর অনেকগুলোই ফেসবুকের প্রচার। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ওপর পুজোর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সুষ্ঠুভাবে উৎসব সম্পন্ন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত কোনও মণ্ডপকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেনি। তবে পুরো উৎসব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনও ধরনের হুমকি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মন্ত্রী জানান, দুর্গাপুজোয় সরকারি ছুটি এবার তিন দিন করা হয়েছে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার যুক্ত হওয়ায় মোট পাঁচ দিনের ছুটি হবে। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় দেশে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।
দুর্গাপুজোর সময় সার্বিক নজরদারি জোরদার করতে বিশেষ একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে নির্বাচনের সময় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিল। মন্ত্রী বলেন, অ্যাপটির মাধ্যমে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা পরিস্থিতির তথ্য দ্রুত জানানো সম্ভব হবে। এতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে। এ ব্যবস্থার জন্য জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ সদর দফতর, বিভাগীয় ও জেলা পুলিশ পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল চালু থাকবে।
বাংলাদেশ পুজো উদযাপন পরিষদের বক্তব্য
বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ পুজো উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দুর্গাপুজোয় ছুটি বাড়ানো এবং অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্তে তারা সন্তুষ্ট। তবে কিছু উদ্বেগের কথা তুলে ধরে সন্তোষ শর্মা বলেন, পুজোর আগে নিরীহ হিন্দু সম্প্রদায়ের কাউকে যেন অহেতুক হয়রানি বা গ্রেফতার না করা হয়, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আহবান জানিয়েছি। এছাড়া দেশের কয়েকটি জায়গায় প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, তা মন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।