বাংলাদেশ ও আমেরিকার সিক্রেট ডিলমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ। কারণ বাংলাদেশও আমেরিকার সঙ্গে একটি সমঝোতার পথে হাঁটছে। বাংলাদেশ-আমেরিকা বাণিজ্য সমঝোতা সম্পূর্ণরূপে গোপন রাখা হয়েছে।
এবার প্রশ্ন উঠছে, অনির্বাচিত মুহাম্মদ ইউনূস প্রশাসনের কাছে কি ক্ষমতা রয়েছে আমেরিকার সঙ্গে এমন বাণিজ্য সমঝোতা করার? পাশাপাশি একটি রিপোর্টও প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকার ফেলার জন্য আমেরিকার ডিপ স্টেট মুহাম্মদ ইউনূসকে সমর্থন করেছিল।
আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতাটি গোপন রাখায় বাংলাদেশের রফতানি সংস্থাগুলি, বিশেষ করে বস্ত্র শিল্পে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই গোপন সমঝোতার শর্তাবলী বাংলাদেশি রফতানিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও দাবি।
বাংলাদেশের মোট রফতানির ৯০%-এরও বেশি তৈরি পোশাক এবং বস্ত্র আসে। ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বস্ত্র শিল্পকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গোপন চুক্তি হয় তাহলে এটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেক্টরে প্রভাব ফেলতে পারে। এটি বাংলাদেশের সমগ্র অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন
চুক্তির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশের নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। অতএব প্রশ্ন উঠছে কেন ইউনূস প্রশাসন নির্বাচনের ঠিক আগে এবং তাঁর মেয়াদের শেষ দিনগুলিতে এই চুক্তি করছে। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-র একটি প্রতিবেদন অনুসারে ইউনূস প্রশাসন ২০২৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অ-প্রকাশ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। যার কারণ খসড়া চুক্তির বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবী আনু মুহাম্মদ বলেন, 'ইউনূস প্রশাসনের তাড়াহুড়ো এবং প্রতারণা কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই চুক্তি সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ, অবাস্তব এবং অনিয়মিত ভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।'
এমনও অভিযোগ রয়েছে, নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে জামাত-ই-ইসলামির সমর্থনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিযুক্ত করা হয়েছিল। ফলত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এই জামাত একটি বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে। বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশে পরিণত করতে শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে মত সে দেশের সাংবাদিক সাহিদুল হাসান খোকনের। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্বচ্ছ এবং অসাংবিধানিক চুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। যা শেষ দিনগুলিতে একটি অগণতান্ত্রিক সরকারের দ্বারা বাংলাদেশকে আরও পিছিয়ে দিচ্ছে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।