Sheikh Hasina: আওয়ামী লিগের সঙ্গে জোট করবে BNP, হাসিনা ঢাকা ফেরার কথা জানাতেই বড় দাবি সাংসদের

দিল্লি থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন তিনি ডিসেম্বর মাসে ঢাকা ফিরবেন। তারপরই বাংলাদেশে নিষিদ্ধ তাঁর আওয়ামী লিগ দলের সঙ্গে জোট করতে চাইছেন BNP সাংসদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী।

Advertisement
 আওয়ামী লিগের সঙ্গে জোট করবে BNP, হাসিনা ঢাকা ফেরার কথা জানাতেই বড় দাবি সাংসদের
হাইলাইটস
  • হাসিনা ঘোষণা করেন তিনি ডিসেম্বর মাসে ঢাকা ফিরবেন
  • এবার আওয়ামী লিগের সঙ্গে জোট করবে BNP?
  • বড় দাবি করলেন BNP সাংসদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী

দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখার কয়েক দিন পরই বড় মন্তব্য করলেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (BNP)-র এক সাংসদ। হাসিনার নেতৃত্বাধীন নিষিদ্ধ আওয়ামী লিগকে নিজেদের দলের ‘মিত্র’ বলে দাবি করলেন সুনামগঞ্জ-২ আসনের BNP সাংসদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে আওয়ামী লিগের সঙ্গে BNP-র জোটের সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি। 

ঢাকার সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার একটি দলীয় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লিগ BNP-র শত্রু নয়, বরং মিত্র। তাঁর দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই দল একসঙ্গে লড়াই করেছে। ভবিষ্যতে আওয়ামী লিগ BNP-র সঙ্গে মিশে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কী বললেন BNP সাংসদ?
প্রথম আলো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে প্রথমবার BNP-র টিকিটে নির্বাচিত নাসির উদ্দিন চৌধুরী দেরাই পুরসভার থানাপয়েন্টে আয়োজিত একটি সভায় বক্তব্য রাখছিলেন। দেরাই উপজেলা ও পুরসভা BNP-র উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণতন্ত্রের জন্য ১৭ বছরের নিরলস সংগ্রাম এবং রক্তাক্ত জুলাই অভ্যুত্থান’ নামে ওই সভায় নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'আওয়ামী লিগের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। আওয়ামী লিগ শীঘ্রই BNP-র সঙ্গে মিশে যাবে।'

তবে তাঁর এই বক্তব্য BNP-র নয়, বরং ব্যক্তিগত বলেই দলের অন্য নেতাদের বক্তব্য।

দিল্লিতে হাসিনার প্রথম প্রকাশ্য ভাষণ
বুধবার ৫ অগাস্ট দিল্লিতে Foreign Correspondents' Club of South Asia আয়োজিত একটি সাংবাদিক সম্মেলনে প্রকাশ্যে কথা বলেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের ছাত্র আন্দোলনের পর এটাই ছিল তাঁর গত দু’বছরের মধ্যে প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য।

ওই আন্দোলনের জেরে হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লিগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং হাসিনা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ভারতে চলে আসেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে হাসিনা জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই তিনি বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বার্ষিকীর সঙ্গে সময়টি মিলে যাবে। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদীদের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয়ের মধ্য দিয়ে, যেখানে ভারতের সামরিক হস্তক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।

Advertisement

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর তারিক রহমানের নেতৃত্বাধীন BNP সরকার ক্ষমতায় এসেছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকার সরকার।

হাসিনার দিল্লির সাংবাদিক সম্মেলনের আগেও বাংলাদেশ ভারতকে অনুরোধ করেছিল, ‘পলাতক’ হাসিনাকে যেন কোনও রাজনৈতিক মঞ্চ দেওয়া না হয়। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক অভিযোগ করেছিল, তিনি ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের ভিতরে অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড চালাতে পারেন।

সাংবাদিক সম্মেলনের আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলিকে হাসিনার বক্তব্য প্রকাশ বা সম্প্রচার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।

হাসিনার সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে তোপ BNP নেতার
বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট শেখ হাসিনার সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে তীব্র আক্রমণ করেন BNP-র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভি।

ঢাকার সংবাদমাধ্যম The Daily Star-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, BNP-র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের বার্ষিকীর সঙ্গে মিলিয়ে পরিকল্পিতভাবে হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

রিজভির অভিযোগ, 'শেখ হাসিনাকে অত্যন্ত পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এটি ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ছিল।' তাঁর আরও দাবি, মহান বিপ্লবের শহিদদের ‘অপমান’ করতেই হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

ভারত থেকে হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্যও ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন রিজভি।

বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকেরও আপত্তি
হাসিনার সাংবাদিক সম্মেলনের পর বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকও একই ধরনের অভিযোগ তোলে। বুধবার প্রকাশিত বিবৃতিতে ঢাকার বিদেশ মন্ত্রক অভিযোগ করে, ভারত নিজের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করার সুযোগ দিয়েছে।

হাসিনার সরাসরি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি ‘অপমান’ বলে উল্লেখ করে মন্ত্রক। তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের শহিদদের অপমান করেছে।

‘রাস্তায় দেখা হবে’, হাসিনাকে বার্তা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির
এদিকে, শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন, তা নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

বুধবার ঢাকার সংবাদমাধ্যম দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'তাঁরা বলছেন, ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরবেন। আমরা অপেক্ষা করছি। দেশে ফিরে আসুন, ইনশাল্লাহ, রাস্তায় দেখা হবে।'

ভারতের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ সরকার হাসিনার সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে আসরে নাম ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ প্রসঙ্গে বলেন, 'আগেও বলেছি, আরও এক বার বলছি— ৫ অগস্টের সাংবাদিক সম্মেলনটির উদ্যোক্তা ছিল একটি বেসরকারি সংগঠন। এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। শেখ হাসিনার অনেক বক্তব্যের সঙ্গেও নয়াদিল্লি একমত নয়।' তাঁর কোন বক্তব্যগুলি ভারত সরকার অনুমোদন করে না, জানতে চাওয়া হলে রণধীর বলেন, 'ঢাকার বর্তমান নির্বাচিত সরকার সম্পর্কে শেখ হাসিনা যা বলেছেন, তার সঙ্গে ভারত সরকার একমত নয়।'

 

POST A COMMENT
Advertisement