সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত। 'সুষ্ঠ, সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল'। জামাত-ই-ইসলামিকে সার্টিফিকেট চিনের রাষ্ট্রদূতের। সোমবার ঢাকায় কট্টরপন্থী দলটির দফতরে গিয়েছিলেন। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত। আর তাতেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ঠিক কী করতে চাইছে বেজিং? ভোটের মুখে এই সাক্ষাৎ কি শুধুই সৌজন্য বিনিময়? মানতে নারাজ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
বাংলাদেশে চিনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সম্প্রতি ঢাকায় জামাত-ই-ইসলামির দফতরে যান। সংগঠনের নেতা আমির ড. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। জামাতকে তিনি একটি 'সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল' বলে উল্লেখ করেন। ২০১০ সালে বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের মামলার শুনানি শুরু হয়। তারপর থেকে এই প্রথম কোনও বিদেশি কূটনীতিবিদ জামাত-ই-ইসলামির দফতরে গেলেন। ওই দফতর দীর্ঘদিন সিল করা ছিল। আওয়ামী লিগ সরকারের পতনের পরই ফের দফতর খোলা হয়।
এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের আর মাত্র এক মাস বাকি। শুধু ইয়াও ওয়েনই নন, তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি চিফ অফ মিশন, পলিটিক্যাল ডিরেক্টরের মতো প্রতিনিধিরা। বৈঠকে চিন ও বাংলাদেশের পারস্পরিক স্বার্থ-সংক্রান্ত একাধিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
জামাত-ই-ইসলামির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চিন ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। দুই দেশের মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নই এই বন্ধুত্বের মূল লক্ষ্য। সংগঠনের দাবি, বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে।
আসন্ন নির্বাচনের জন্য জামাত-ই-ইসলামি হাসিনাবিরোধী ছাত্রদল ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধেছে। সেই নিয়েও অনেক জলঘোলা হয়। জোটের পরপরই ছাত্রদের অনেকে জামাত-বিতৃষ্ণায় রাজনীতি ত্যাগ করেছেন।
তবে উল্লেখ্য, সম্প্রতি জামাত-সমর্থিত জোট ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জিতেছে। ফলে জামাতের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ নেই।
প্রসঙ্গত, জামাত-ই-ইসলামি বাংলাদেশ একটি কট্টরপন্থী রাজনৈতিক দল। ১৯৪১ সালে মৌলানা আবুল আলা মওদুদি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল জামাত। শরিয়ত শাসনব্যবস্থার সমর্থক এই দল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়ানোর অভিযোগ ওঠে জামাতের বিরুদ্ধে। সেই কারণে সংগঠনের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা করা হয়। ২০১০ সালের পর ওয়ার ক্রাইম ট্রায়ালে জামাতের বহু শীর্ষ নেতা দোষী সাব্যস্ত হন।
শেখ হাসিনা সরকার জামাত-ই-ইসলামিকে 'কট্টরপন্থী ও সন্ত্রাসবাদী প্রবণতাসম্পন্ন সংগঠন' বলে আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করেছিল। তবে মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। তার পর থেকেই আবার সক্রিয় জামাত-ই-ইসলামি। সংগঠনের ছাত্র শাখা 'ইসলামি ছাত্র শিবির' দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ প্রভাবশালী। ফলে, সেই দলের কার্যালয়ে চিনা রাষ্ট্রদূতের এই সফর যে নিছক কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।