ওসমান হাদিমৌলবাদী নেতা ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেফতার করতে না পারলে সরকার ফেলে দেওয়া হবে। বাংলাদেশের অন্তর্বতীকালীন প্রধান মহম্মদ ইউনূসকে হুঁশিয়ার দিয়েছিল ইনকিলাল মঞ্চ। সেই মঞ্চেরই নেতা ছিলেন হাদি। হুঁশিয়ারির কয়েকদিনের মধ্য়েই চার্জশিট দাখিলের তোড়জোড় শুরু করে দিল বাংলাদেশ পুলিশ। সোমবার, সেই দেশের সরকার জানিয়েছে, বুধবার আদালতে চার্জশিট জমা করা হবে।
আজ বাংলাদেশ সরকারের সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী জানান, হাদির খুনের তদন্তকে খুব গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এই সরকারের মেয়াদের মধ্য়েই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ৭ জানুয়ারি হত্যা মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সেই দেশে সাধারণ নির্বাচন হবে। তার আগেই হাদি খুনের তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করতে মরিয়া সরকার। তা না হলে সরকারের উপর চাপ বাড়বে। এমনকী ইনকিলাব মঞ্চের হুঁশিয়ারি মতো ইউনূসকে প্রবল আন্দোলনের মুখেও পড়তে হতে পারে। তাই কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না সরকার। কোনওরকমে তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করতে চাইছে।
রাজনৈতিক মহলের আরও একটা বড় অংশের দাবি, এত দ্রুত চার্জশিট পেশের কারণ মহম্মদ ইউনূসের পুলিশের ব্যর্থতা। কারণ, অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য ইউনূসকে চরম সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। অথচ পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। হাদির মৃত্যুর পর পুলিশ জানিয়েছিল, দুই অভিযুক্ত ভারতে পালিয়েছে এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি। কয়েকদিন পর সেই পুলিশই জানায়, মেঘালয় সীমান্ত হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। অথচ এক অভিযুক্ত সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, তিনি ফয়সাল করিম মাসুদ। তাঁকে অভিযুক্ত করা হলেও হাদিকে হত্যা করেননি। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। ভারতে পালিয়ে আসেননি। দুবাইয়ে আছেন।
যে মহম্মদ ইউনূসের প্রশাসন হাদির খুনিদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য ভারতকে অভিযুক্ত করেছিল, সেটাও যে মিথ্যা তাও সামনে চলে আসে ভিডিও সামনে আসায়। ফলে সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পড়ে সরকার। এই অবস্থায় মান বাঁচাতে তড়িঘড়ি চার্জশিট দাখিল করা হচ্ছে পুলিশের তরফে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করা হল হাদিকে। চিকিৎসার জন্য বিমানে করে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে মারা যান। সেই ঘটনার পর উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়। এক হিন্দু শ্রমিককে পিটিয়ে খুন করে মৌলবাদীরা।