
‘বাংলাদেশে এবং ভারতে হিন্দু সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেওয়া হবে।’ এমনই আশ্বাস দিলেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী। ৭৭ বছর বয়সী এই প্রবীণ নেতা সরকারের একমাত্র হিন্দু মন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বও সামলাচ্ছেন।
শপথ গ্রহণের পর একান্ত সাক্ষাৎকারে নিতাই চৌধুরী জানান, নতুন সরকার দেশের সব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে দেশে চরমপন্থার বিস্তার রুখতেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, 'আগের সরকার বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দিয়েছিল।' ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার সময় পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'সাক্ষরতার হার বাড়ানোর লক্ষ্যে ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থীকে প্রকৃত মেধা যাচাই ছাড়াই উত্তীর্ণ করা হয়েছিল, যা শিক্ষার মান ক্ষুণ্ণ করেছে।'
সংস্কৃতি প্রসঙ্গে নিতাই চৌধুরীর বক্তব্য, 'পূর্ববর্তী শাসনামলে দেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অশ্লীল নৃত্য-সঙ্গীতকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। নতুন সরকার বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের চেতনাকে শক্তিশালী করতে চায় এবং ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারে উদ্যোগী হবে।'
হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে হিন্দু ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি প্রমাণ করে যে তারা নিজেদেরকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই দেখে। তাঁর কথায়, হিন্দু সম্প্রদায় আর কেবল কোনও রাজনৈতিক দলের ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হয়ে থাকতে চায় না। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেতৃত্বের নিরাপত্তার আশ্বাসের পরই হিন্দু ভোটাররা বিপুল সংখ্যায় সমর্থন জানিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
নিতাই চৌধুরীর দাবি, সংসদের ২৯৭টি আসনের মধ্যে প্রায় ৮০টি আসনে হিন্দু ভোটাররা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেন। অতীতে এই সমর্থন মূলত আওয়ামি লীগের দিকে গেলেও, নিরাপত্তাহীনতার কারণে সেই সমীকরণ বদলেছে। নতুন সরকার সংখ্যালঘুদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট বলেও জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে, সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় সরকার। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর বক্তব্য, বাঙালি সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং বিশ্বের অন্তত ৪৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি সরকার চরমপন্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে এবং ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।