বাংলাদেশে হিন্দু আক্রমণবাংলাদেশে হিন্দু আক্রমণ চলছে তো চলছেই। কিছুতেই এই আক্রমণে রাশ টানতে পারছে না অন্তবর্তী মহম্মদ ইউনূস সরকার। আর এই ধারাবাহিক আক্রমণের শেষ সংযোজন হলেন খোকন চন্দ্র দাস। এই ব্যবসায়ীকে তাঁর বাড়ির বাইরেই একদল মানুষ প্রথমে গণধোলাই দেয়। তারপর ছুরি দিয়ে করে আঘাত। এরপর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। বর্তমানে ৩০ শতাংশ পোড়া নিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন খোকন। ঢাকার হাসপাতালের ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চলছে তাঁর চিকিৎসা।
আর এই ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন খোকনের স্ত্রী। নিজের একরত্তি সন্তানকে হাতে নিয়ে জানান, তাঁর স্বামী বাড়ি ফিরে আসছিলেন। আর ঠিক এই সময়ই স্বামীর উপর আক্রমণ হয়। তিনি সংবাদ সংস্থা ANI-কে জানান, 'আমার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। তখনই একদল দুষ্কৃতি তাঁকে ঘিরে ধরে। তারপর গায়ের উপর পেট্রোল দেওয়া হয়। ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুন। আমার স্বামী খুবই শান্ত মানুষ। তাঁর কোনও শত্রু নেই। আমরা বুঝতে পারছি না কেন তাঁকে টার্গেট করা হল।'
পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন
খোকনের পরিবার সূত্রে খবর, বুধবার রাত ৮.৩০ নাগাদ এই আক্রমণ করা হয়। তাঁর বোন অঞ্জনা রানি দাস জানান, প্রথমে খোকনের মাথায় লাঠি দিয়ে মারা যায়। তারপর গায়ে ঢালা হয় পেট্রোল। এরপর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, 'সে (খোকন দাস) সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকে। নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য কাছের পুকুরে ঝাঁপ দেয়। তবে ততক্ষণেই খুব ভয়ঙ্করভাবে পুড়ে গিয়েছিল।'
খোকন দাসের ভাইপো সৌরভ দাসও এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানান, এই ঘটনার কথা জানার পরই দ্রুত তাঁকে নিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। তাঁর কথায়, 'আমার কাকার মুখ এবং হাত খুব খারাপভাবে পুড়ে গিয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসেছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।'
এই ঘটনা নিয়ে বিস্ফোরক আরও এক ভাইপো প্রান্ত দাস। তাঁর মতে, জেনে বুঝে পরিকল্পনা করে খুনের উদ্দেশ্য নিয়েই এই হামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'কাকার কারও সঙ্গে কোনও শত্রুতা ছিল না। খুনের উদ্দেশ্য নিয়েই তাঁর উপর আক্রমণ করা হয়। তিনি এখন ICU তে ভর্তি। খুবই আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে।'
বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর দুই সপ্তাহে চতুর্থ আক্রমণ
বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর আক্রমণ থামার কোনও নামই নেই। দুই সপ্তাহের মধ্যে ৪ জনের উপর আক্রমণ হয়েছে। কয়েক দিন আগেই বজেন্দ্র বিশ্বাস নামের এক নিরাপত্তারক্ষীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আবার অমৃত মণ্ডল নামের এক যুবককেও পিটিয়ে করা হয় হত্যা। তারও আগে দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করার পর জনসমক্ষে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। আর সেই ধারা এখনও চলছে তো চলছেই।