নিজস্ব গ্রাফিক্স।বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক হিংসাত্মক হামলা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মাত্র ৩৫ দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কমপক্ষে ১১ জন হিন্দুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ভারতীয় ও বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই ঘটনাগুলি ঘটে ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারির মধ্যে।
সর্বশেষ, ৫ জানুয়ারি যশোরে হিন্দু সংবাদপত্র সম্পাদক রানা কান্তি বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিনে নরসিংদীতে হামলায় মৃত্যু হয় মুদি দোকানি মণি চক্রবর্তীর। এর আগে ময়মনসিংহ, রংপুর, ফরিদপুর, কুমিল্লা, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী, একাধিক জেলায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে।
এই তালিকায় রয়েছেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়, যাঁদের রংপুরে নিজ বাড়িতে গলা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। রয়েছেন পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস, যাঁকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে জনতা পিটিয়ে হত্যা করে দেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হামলার নৃশংসতা এবং লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে।
মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসন একাধিকবার এই হত্যাকাণ্ডগুলিকে ‘সাম্প্রদায়িক নয়’ বা ‘ব্যতিক্রমী ঘটনা’ বলে ব্যাখ্যা করলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলি ভিন্ন মত পোষণ করছে। তাদের মতে, এটি সংখ্যালঘুদের উপর লক্ষ্যভিত্তিক হিংসার একটি উদ্বেগজনক ধারা। ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক সংগঠন ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবিও জানিয়েছে।
বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতির চিত্রও সামনে এসেছে। এক এনজিও রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালেই জনতার হিংসায় প্রায় ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশি তদন্তের ধীরগতি ও দোষীদের শাস্তি না হওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কি যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকা নেবে, নাকি এই ঘটনাগুলিও ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যাবে?