বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক কোন পথে এগোবে?মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে শপথ নেবেন বিএনপি প্রধান তারেক রহমান। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের আগে পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল বাংলাদেশের। তবে মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বতী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সমীকরণ বদলে যায়। একাধিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়। কিন্তু এবার ক্ষমতায় বসতে চলেছেন তারেক। নয়া সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেমন হবে, কোন পথে এগোবে দুই দেশ? এমন অনেক প্রশ্ন উঠছে।
মহম্মদ ইউনূসের সরকার হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর ব্যাপারে ভারতকে একাধিকবার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেটাই ছিল দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির অন্যতম কারণ। বিএনপি পরিচালিত সরকারও কি হাসিনার প্রসঙ্গে ভারতের কাছে আবেদন জানাবে? এই বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির।
দ্য হিন্দুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'শেখ হাসিনা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। এটা আমরাও বিশ্বাস করি। বাংলাদেশের আম আদমি তাঁর শাস্তি চান। আমরা বিশ্বাস করি, ভারতের উচিত হাসিনাকে আমাদের হাতে ফেরত দেওয়া। তবে, এটাও ঠিক যে এর উপর কিন্তু দুই দেশের বাণিজ্যিক-সহ কোনও সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও প্রভাব ফেলবে না। আমরা ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাই।' ওই ব্যক্তি আরও জানান, ইউনূস সরকারের আমলে হাসিনার যে সব মন্ত্রীদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে ও বিচার প্রক্রিয়া চলছে তা বলবৎ থাকবে।
ভারত ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করবে
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির জানান, ভারতের সঙ্গে কাজ করতে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ। সেজন্য আমেরিকা ও চিনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। এই দুই দেশ চির প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েও যদি কাজ করতে পারে তাহলে ভারত-বাংলাদেশ কেন পারবে না? সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, ' আমেরিকা ও চিনের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে, বিরোধ আছে। তাও তারা একসঙ্গে কাজ করে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কেবল একটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।'
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আলমগির জানান, ১৯৭৫ সালের অগাস্টে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর, শেখ হাসিনা যখন ভারতে ছিলেন, তখন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানও ভারত সফর করেছিলেন। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশায়ও ঢাকা সফরে এসেছিলেন। বিএনপির সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে দিল্লি গিয়ে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এই একই সময় শেখ হাসিনা তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য বাংলাদেশে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছিলেন।'
কোন কোন বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কথা বলবে বাংলাদেশ?
তিনি বলেন, 'গঙ্গা জলচুক্তি পুনর্নবীকরণের আওতায় আগামী বছরের আগে ফারাক্কার বিষয়টি উত্থাপন করা হবে ভারতের সঙ্গে। তারপর সীমান্ত সমস্যার বিষয়টিও রয়েছে।' বাংলাদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো মাঝেমাঝে যুদ্ধের প্রসঙ্গ তোলে। তা নিয়ে আলমগির সাফ জানান, 'আমরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারি না। আমাদের আলোচনা করতে হবে। যারা ভারতের সঙ্গে লড়াই করার কথা বলে, তারা পাগলের প্রলাপ বকছে।'
বিএনপির ওই নেতা আরও জানান, তাঁদের লক্ষ্য ভারতের সাহায্য নিয়ে বাংলাদেশের বেকার সমস্যা মেটানো। বলেন, 'কারিগরি শিক্ষার জন্য ভারতের সম্পদ রয়েছে। আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক বেকার। আমরা এক্ষেত্রে ভারতের সাহায্য নেব।'
ভারতের বিষয়ে তারেকের অবস্থান কী?
১৭ বছর নির্বাসন শেষে গত ডিসেম্বরে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমান। তবে ভারতবিরোধী অবস্থান নেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। প্রসঙ্গত, ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ভালো ছিল না। কিন্তু তারেক তা নিয়ে টুঁ শব্দটিও করেননি।