৪০ মিনিট ধরে তারেক-প্রণয় বৈঠকসংখ্যালঘুদের উপর চলমান হিংসার মধ্যেই, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বিএনপি চেয়ারর্পাসন তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার একদিন পর এই সাক্ষাৎ হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের মুখপাত্র সাইরুল কবির খান জানিয়েছেন, দুজনের মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে বৈঠক চলে। এর আগে, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই বৈঠকটি তাৎপর্যপূর্ণ কারণ মাত্র একদিন আগেই তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি চেয়ারর্পাসনের পদ গ্রহণ করেন। ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর থেকে এই পদটি শূন্য ছিল। তারেক রহমান বাংলাদেশে ফেরার পর থেকেই তাঁকে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
The High Commissioner of India to Bangladesh, Pranay Verma, paid a courtesy call on BNP Chairman Tarique Rahman at the BNP Chairperson’s Office, Gulshan, Dhaka, on Saturday, 10 January 2026.@ihcdhaka#BNP #TariqueRahman #Bangladesh #India #Courtesy #Diplomacy pic.twitter.com/olvBjYU2BU
— Bangladesh Nationalist Party-BNP (@bdbnp78) January 10, 2026
এই সাক্ষাতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল হাইকমিশনারের তারেক রহমানকে দেওয়া ব্যক্তিগত চিঠি। খবর অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই চিঠিতে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং আরও বলেছেন যে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটি 'নতুন দিগন্ত' উন্মোচন করতে পারে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বৈঠকে কূটনৈতিক আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলাদেশের সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দুরা। এর আগে, বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছিলেন। তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর একটি শোকপত্র দেন। উল্লেখ্য, ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে তারেক রহমান ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরে আসেন। শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি নির্বাসিত হন।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে উত্তেজনা অব্যাহত
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক আজকাল স্পষ্টতই উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর চলমান আক্রমণ। গত শুক্রবার, ভারতের বিদেশমন্ত্রক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর চরমপন্থী আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে, বারবার তাদের বাড়িঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হচ্ছে। তিনি এই ঘটনাগুলিকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন, বলেছেন যে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক হিংসা দ্রুত এবং দৃঢ়ভাবে মোকাবেলা করা অপরিহার্য। তিনি আরও সতর্ক করে বলেছেন যে ব্যক্তিগত ক্ষোভ, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা বাহ্যিক কারণের উপর এই আক্রমণগুলিকে দায়ী করার প্রবণতা বিপজ্জনক।