তারেককে বিপদে ফেলবে জামাত? বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে স্পষ্ট জনাদেশ পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)। মোট ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে তারেক রহমানের দল। তিনিই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছে।
তবে এই নির্বাচনে প্রথমবার বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে জামাত ইসলামি। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জামাতের এই ফলাফল বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। তারা ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। যা সেখানকার রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশে এবার ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছিল আওয়ামি লিগ। তাদের অংশগ্রহণও করতে দেওয়া হয়নি নির্বাচনে। ফলে ভোটারের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। মাত্র ৫৯.৪৪ শতাংশ। হাসিনার দাবি, এই ভোট প্রহসন। গণতন্ত্রের নামে ছেলেখেলা করা হয়েছে। তিনি নির্বাচন বাতিলের ডাকও দিয়েছেন। তাঁর আরও দাবি, আওয়ামি লিগ ভোট বয়কট করার কারণেই এত কম ভোট পড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের দাবি, হাসিনার দাবি, সর্বেব মিথ্যা নয়। আওয়ামি লিগ ভোটে অংশগ্রহণ করলে ভোটের হার আরও বাড়ত। সেক্ষেত্রে জামাতের ভোট কমত। আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হত বিএনপির সঙ্গে।
জামাতের উত্থান বিএনপির মাথাব্যথার কারণ হবে?
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, জামাতের এতগুলো আসন পাওয়া বাংলাদেশে রাজনীতিতে অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে। India Today-এ এক আলোচনায় জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. তারা কার্থা বলেন, সংসদে জামাতের উপস্থিতি এবারের নির্বাচনের উদ্দেশ্য বদলে দিতে পারে। জামাতের উত্থান বিপদ ডেকে আনতে পারে তারেক রহমানেরয তাঁকে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রেও চাপে পড়তে হতে পারে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের এও দাবি, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা Inter-Services Intelligence (আইএসআই)-এর দাপটও বাড়তে পারে জামাতের কারণে। তারা পাকিস্তানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবে এই জামাতের হাত ধরেই।
এরকম মনে করার কারণ হল, জামাতের উত্থানই হল ভারত বিরোধিতা থেকে। বাংলাদেশের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল এই জামাতরা। হাসিনার আমলে তাদের দলের অনেকেই জেল খেটেছে।
ড. কার্থা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রস্তাবিত গণভোটে জামায়াতের সমর্থন ছিল শতভাগ। এতে বিরোধী দলগুলো সংসদীয় কমিটিগুলোর নেতৃত্ব পেতে পারে—যা ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে।
তারেক রহমানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমান এমন একটা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মসনদে বসছেন যখন তাঁর উপর বিপুল প্রত্যাশা রয়েছেন আম আদমির। জুলাই বিপ্লব হয়েছিল বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটভূমিরক কারণে। সেই সময় বিএনপি-কেও শত্রু হিসেবেই বিবেচনা করেছিল আন্দোলনকারীদের একাংশ। তবে ক্ষমতায় এল সেই তারাই। সুতরাং রাজনৈতিকভাবে বিরোধের মুখে পড়তে পারেন তারেক। একই সঙ্গে বেকারত্ব, শিল্প সংকটের মতো বিষয়গুলো তো আছেই।
দ্য ঢাকা ট্রিবিউন-কে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন,
'নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশ পুনর্গঠনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো অজুহাতে কারও প্রতি অবিচার করা যাবে না। যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে।'
বাংলাদেশ তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তিনি যাবেন না। সেখানে পাঠানো হচ্ছে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি।