বাংলাদেশে বাড়ছে হিন্দুদের উপর অত্যাচার বাংলাদেশে যে হিন্দু তথা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অত্য়াচার হচ্ছে তা স্বীকার করে নিলেন অন্তর্বতী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস। সম্প্রতি সেই দেশের সরকারের তরফে ২০২৫ সালের তথ্য সামনে আনা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, অনেক সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে। হিন্দুদের মন্দির, দেব-দেবীর মূর্তিও ভাঙচুর করা হয়েছে। যদিও সেই দেশের সরকারের তরফে এর আগে একাধিকবার জানানো হয়েছিল, সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর তারা। তবে তা যে বাস্তবে হয়নি, তা মেনে নেওয়া হল এই রিপোর্টের মাধ্যমে।
ইউনূসের সরকার জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ঘটেছে এমন ৬৪৫টি ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। তার মধ্যে ৭১টি ঘটনা সাম্প্রদায়িক। সেই সব ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে ধর্মীয় স্থান, মন্দির ভাঙচুর, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার ইত্যাদি।
সরকারের দাবি, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটলেও পুলিশ সেগুলোর বিরুদ্ধে মামলা নথিবদ্ধ করেছে ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে মন্দির বা প্রতিমা ভাঙচুরের মতো ঘটনাগুলোকে সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিচার করার চেষ্টা করেছে প্রশাসন।
তবে যে সব ঘটনা সামনে এসেছে তার অধিকাংশই সাম্প্রদায়িক নয় বলে দাবি করেছে সেই দেশের সরকার। তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ৫৭৪টি ঘটনা এমন যেগুলো অসাম্প্রদায়িক নয়, অপরাধমূলক। এগুলোর মধ্যে চুরি, খুব, ধর্ষণ, লুটপাটের মতো ঘটনা আছে।
বাংলাদেশ সরকার সব ধর্মের মানুষকে সমান গুরুত্ব দেয় সেটাও দাবি করেছেষ। জানিয়েছে, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। তাই অধিকারও সবার সমান। সেটা বরাবর সরকার নিশ্চিত করে থাকে। এটা যেমন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তেমনই আবার সরকারের নৈতিক দায়িত্বও।
যদিও বাংলাদেশ সরকারের এই দাবি যে সম্পূর্ণ সত্যি নয় সেকথা বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দাবি, সেই দেশে এমন অনেক ঘটনা ঘটে যে সংখ্যালঘু হিন্দু বা বৌদ্ধরা কখনও থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারে না। তাদের মুখ বুজে সহ্য করতে হয়। সুতরাং ইউনূস প্রশাসন যে তথ্য সামনে এনেছে তা সর্বাংশে সত্য নয়।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের দিন যত বেশি এগিয়ে আসছে ততই হিন্দুদের উপর অত্যাচার বাড়ছে। হিন্দু শ্রমিক, ডাক্তার-সহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। তার মধ্যেই এই তথ্য সামনে আনল বাংলাদেশ প্রশাসন।