বাংলাদেশের জামাত নেতারা কী বলছেন?মানুষের তৈরি আইন নয়, আল্লার আইনেই চলবে পরবর্তী সংসদ। এমনটাই মন্তব্য করলেন জামাত নেতা। বাংলাদেশ নির্বাচনের আগে রাজশাহীর নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ হেন বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মুজিবর রহমান। এক মুজিবের স্বপ্ন শেষ করতে উদ্যত এই কট্টরপন্থী দলের নখ-দাঁত যেন ক্রমশই বেরিয়ে আসছে।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনা পরবর্তী নির্বাচনের আগে জামাত-ই-ইসলামি কি ধীরে ধীরে তার পুরনো আদর্শে ফিরে যাচ্ছে? এমন প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে। দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সহ অধ্যাপক মুজিবর রহমানের একটি বক্তব্যেই তেমন ইঙ্গিত মিলছে।
বৃহস্পতিবার রাজশাহীর পদ্মা নদীর তীরবর্তী মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক মুজিবর রহমান বলেন , 'স্বাধীনতার পর থেকে দেশে আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন হয়নি। তবে এবার আর তা হবে না।' তিনি স্পষ্ট করে বলেন, 'দেশে আর কোনও মানুষের তৈরি আইন চলবে না। বরং কোরান ও সুন্নাহভিত্তির আল্লাহর আইনেই আগামী সংসদ পরিচালিত হবে।'
রাজশাহীর একটি আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামাত নেতা বলেন, 'এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য জামাতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে ভোট দিতে হবে।'
সম্প্রতি নারীদের নিয়ে জামাতের কিছু বক্তব্য ঘিরে সমালোচনার মুখে পড়েছে দলটি। এই কারণেই রাজশাহীর সমাবেশে জামাতের আমির ড. শফিকুর রহমান তুলনামূলক সতর্ক ছিলেন। তিনি বলেন, 'জামাত এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চায় যেখানে আল্লাহ প্রদত্ত সকল অধিকার নারীরা নিশ্চিত ভাবে পাবেন।' একইসঙ্গে তিনি নারীদের ঘরের কাজ, চলাফেরা ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন।'
তবে লক্ষণীয় বিষয় হল, এদিনের কোনও বক্তব্যেই নারীবিষয়ক সমালোচনার সরাসরি জবাব দেওয়া হয়নি। বরং দীর্ঘদিন পর আবারও প্রকাশ্যে শোনা যায় জামাতের পুরনো স্লোগান, 'আমরা আল্লাহর আইন চাই।'
এদিকে, দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে আওয়ামি লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় দলটি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঐতিহাসিক ভাবে উদার ও প্রগতিশীল দল হিসেবে পরিচিত আওয়ামি লীগের অনুপস্থিতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে চলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) ও জামাত-ই-ইসলামির মধ্যে। BNP সাধারণত মধ্যপন্থী দল হিসেবে পরিচিত হলেও জামাতের ভোটব্যাঙ্ক একই ধারার বলে মনে করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত জোট সরকার চালিয়েছিল BNP এবং জামাত। যে সময়টি দুর্নীতি, সন্ত্রাস, অস্ত্র চোরাচালান এবং ইসলামি জঙ্গিবাদের উত্থানের জন্য কুখ্যাত। বর্তমানে জামাত নতুন করে যুবসমর্থিক দল NCP-র সঙ্গে জোট গড়েছে যারা ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল।
গত দেড় বছর ধরে জামাত নিজেকে একটি মধ্যপন্থী ইসলামি দল হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করলেও আওয়ামি লীগের অনুপস্থিতিতে নির্বাচনী ময়দানে শক্ত অবস্থান পাওযার পর দলটি আবারও আগের কঠোর আদর্শে ফিরছে কি ন, সে আশঙ্কাই তৈরি হয়েছে।