দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি, অর্থাৎ ৫ অগাস্ট দিল্লিতে ভার্চুয়ালি বক্তৃতা করছেন শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা LIVE
-
তিনি আরও বলেন, 'আজ সাধারণ মানুষ এর মূল্য দিচ্ছেন। দারিদ্র্যের হার ১৮ শতাংশ থেকে ৪৬ শতাংশে পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীদেরও নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।'
-
হাসিনা দাবি করেন, '২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর ষড়যন্ত্র থেমে যায়নি, হত্যাকাণ্ডও বন্ধ হয়নি। অন্তত ১০ হাজার মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। প্রায় ১৫ হাজার মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আওয়ামি লিগের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে ৩ হাজারেরও বেশি মামলা দায়ের হয়েছে। আমার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা সাজানো হয়েছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কলঙ্কিত ও আহত হয়েছে। এটি বিচ্ছিন্ন হিংসার ঘটনা নয়। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ এবং বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার মুছে ফেলাই তাদের উদ্দেশ্য।'
-
তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'যখন থানায় হামলা হচ্ছে, অস্ত্র লুট হচ্ছে, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করা হচ্ছে, তখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব কী? সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা কি রাষ্ট্রের কর্তব্য নয়? ক্ষমতা দখলের পর মহম্মদ ইউনূসের অবৈধ সরকার তদন্ত বন্ধ করে দেয়। তারা সত্য বা ন্যায়বিচার চায়নি, তারা শুধু ক্ষমতা চেয়েছে।'
- হাসিনা বলেন, '২০২৪ সালের জুলাই মাসের ঘটনাগুলি নিয়ে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে চাই। সেই সময় ভুয়ো প্রচার চালানো হয়েছিল। প্রকৃত ছাত্রদের ব্যবহার ও প্রভাবিত করা হয়েছিল স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দ্বারা। বিষয়টি কখনও শুধু কোটা নিয়ে ছিল না। মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকার পরিবর্তনের দিকে মানুষকে ঠেলে দেওয়া। মহম্মদ ইউনূসের নিজের বক্তব্যই প্রকৃত সত্য প্রকাশ করেছে। তিনি স্বীকার করেছেন, এটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত একটি অভিযান। সেই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া।'
- তাঁর আমলে বাংলাদেশের যে উন্নতি হয়েছিল তা অতীত। দাবি করেন হাসিনা।
- তাঁর আরও অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে আওয়ামি লিগের হাজার হাজার নেতা, কর্মী ও সমর্থক, পাশাপাশি পুলিশকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, বিচারক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা গ্রেফতার, নির্যাতন ও হিংসার শিকার হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন পরবর্তীতে সংবিধানের ওপর একটি সুপরিকল্পিত আক্রমণে পরিণত হয়। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার ভিন্নমত দমন করছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
তাঁর কথায়, 'আমি আমার দেশ থেকে দূরে আছি, কিন্তু কখনও আমার দেশের মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি। আমি এবং আমার পরিবার বাংলাদেশের জন্য লড়াই করেছি। এটি সেই বাংলাদেশ নয়, যার জন্য ৩০ লক্ষ মানুষ প্রাণ দিয়েছিলেন। আসুন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনাগুলি নিয়ে প্রকৃত সত্য সামনে আনি। এটা স্পষ্ট যে, সেগুলি মিথ্যা প্রচারের অংশ ছিল।'
- বাংলাদেশে যা হয়েছে তা পরিকল্পিত। আমি শুধুমাত্র প্রাক্তন PM হিসেবে আজ কথা বলছি না, কথা বলছি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসেবেও। বলেন হাসিনা।
- নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (FCC) থেকে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি ভাষণ দিচ্ছেন। ভাষণ শুরু করেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। কান্নায় তাঁর গলা ধরে আসে।
- অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, 'আজ আমাদের সরকারকে সহিংসভাবে ক্ষমতাচ্যুত করার দুই বছর পূর্ণ হল। গত দুই বছর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সংকটের সময়। একটি বিশেষ মতাদর্শের মানুষের ওপর নির্যাতন বেড়েছে। দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ মূল্যবৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত। যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ কমেছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং অন্যান্য গোষ্ঠীর জন্য জনপরিসর সংকুচিত হয়েছে।'
- তিনি আরও বলেন, 'আমরা চাই বাংলাদেশ এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসুক। সেই আশাতেই আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চান। তিনি প্রতিশোধ চান না, পুরনো ক্ষত সারিয়ে তুলতে চান। আমরা প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার চাই।'
- মহিবুল হাসান চৌধুরী বাংলাদেশের সরকারি সংস্থাগুলিকে পেশাদার ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশের বন্ধু রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক মহলের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনে সহায়তা করার আবেদনও জানান। তাঁর কথায়, 'শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে সংঘাত নয়, ক্ষত নিরাময়ের সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।'
কী বললেন সজীব ওয়াজেদ জয়?
শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও বাংলাদেশে হিংসা থামেনি। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের অগস্টের বিক্ষোভের পরও হত্যাকাণ্ড চলতে থাকে।
তিনি রাষ্ট্রসংঘ (UN)-এর প্রকাশিত মৃত্যুর সংখ্যা এবং সরকারি পরিসংখ্যানের মধ্যে পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, একটি 'ইনডেমনিটি' (দায়মুক্তি) ব্যবস্থার মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া হিংসার ঘটনাগুলি গভীরভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানান।
সজীব ওয়াজেদ জয় আরও অভিযোগ করেন, 'বাংলাদেশ আরেকটি পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে।' তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতি ভারতের জন্যও উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত।
বুধবার দিল্লির ‘ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া’-তে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন মুজিবুর রহমানের কন্যা। ভারত ও বাংলাদেশ- এই দুই দেশ থেকেই সরাসরি দেখা যাবে এই সম্প্রচার।
ভারতে এই অনুষ্ঠান সন্ধে ৬ টা থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত হওয়ার কথা। সেখানে বাংলাদেশে সাড়ে ৬ টা থেকে আটটা পর্যন্ত। আর তা দেখা যাবে-
Facebook: FCCSouthAsia
YouTube: @FCCSouthAsia
Website: www.fccsouthasia.com
X (Twitter): X.FCCNewDelhi
উপরে উল্লেখিত লিঙ্কে।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই শেখ হাসিনা জানিয়েছেন তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমানের সরকার জানিয়ে দিয়েছে, হাসিনা দেশে এলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। এই পরিস্থিতিতে আজকের সাংবাদিক সম্মেলন খুব গুরুত্বপূর্ণ।