শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ভোট সম্পন্ন হতেই বিবৃতি জারি করলেন সেই দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর মতে, এই ভোট প্রত্যাখ্যান করেছে দেশের আম আদমি। সেই কারণে এত কম ভোট পড়েছে। ভোট প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামি লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ফের অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবি জানান তিনি।
মুজিবুর কন্যা জানান, বাংলাদেশের আপামর জনগণ তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে ভোট প্রত্যাখ্যান করেছেন। সেজন্য তাঁদের ধন্যবাদ। মহম্মদ ইউনূস অগণতান্ত্রিকভাবে ভোট পরিচালনা করেছেন। এই ভোট তার প্রমাণ। তিনি লেখেন, 'অবৈধ ও অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলকারী ইউনূসের এই ভোট একটা পরিকল্পিত প্রহসন। জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সংবিধানের চেতনাকে উপেক্ষা করে, আওয়ামি লিগকে ছাড়া এই ভোট হয়েছ। যা প্রতারণার সামিল।'
হাসিনার দাবি, এবারের ভোটেও সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হয়েছে। লুটপাট চলেছে। জোর করে নির্বাচন করানো হয়েছে। ভোটের শতকরা হার প্রমাণ করে দেয়, সাধারণ মানুষ ভোটে অংশগ্রহণ করতে চাননি। জানান, '১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধে থেকে ভোটকেন্দ্র দখল, গুলিবর্ষণ, ভোট কেনার জন্য অর্থের ব্যবহার, ব্যালট পেপারে স্ট্যাম্পিং করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি অত্যন্ত কম ছিল। সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ১৪.৯৬%। এই কম অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, জনগণ আওয়ামি লিগ ছাড়া নির্বাচন বয়কট এবং প্রত্যাখ্যান করেছে।'
ভোটে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার পরও আওয়ামি লিগের কর্মীদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ হাসিনার। তাঁর দেশত্যাগের পর থেকে কর্মীদের মারধর, অকারণে গ্রেফতার, বাড়ি লুটপাট করা হয়েছে, দাবি করেন তিনি।
এই ভোট বাতিলের দাবিও করেন তিনি। জানান, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট করাতে হবে। নির্বাচনে দাঁড়ানোর ছাড়পত্র দিতে হবে আওয়ামি লিগকেও।
এবার বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে নির্বাচন করেছে নির্বাচন কমিশন। হাসিনার দলকে ভোটে অংশগ্রহণই করতে দেওয়া হয়নি। অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান ইউনূস অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের দাবি করলেও তা হয়নি। প্রাণ হারিয়েছেন একাধিকজন। বোমাবাজির মতো ঘটনাও ঘটেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভোট পড়েছে মাত্র ৪৮ শতাংশ। দেখেশুনে অনেকেই বলছেন, হাসিনার ডাকে বহু মানুষ ভোট দেননি। তাঁর যে জনসমর্থন এখনও আছে, তাই প্রমাণ করে দিল এদিনের নির্বাচন।