শেখ হাসিনা ও তারেক রহমান বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগের সঙ্গে ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা মীমাংসার উদ্যোগকে খারাপ ভাবছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মীমাংসার উদ্যোগ আওয়ামি লিগকেই প্রথমে নিতে হবে এবং দলের অতীত কর্মকাণ্ডের দায়ও স্বীকার করতে হবে।
মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (BNP)-র এই নেতা বলেন, আওয়ামি লিগের সক্রিয় কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া খারাপ কোনও ভাবনা নয়। বরং এমন কোনও উদ্যোগ হলে তা ইতিবাচকই হবে।
জাহিদ উর রহমান বলেন, 'আওয়ামি লিগের সক্রিয় কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া কোনও খারাপ ধারণা নয়। বরং এমন উদ্যোগ হলে ভালোই হবে।' তাঁর বক্তব্য, কোনও মধ্যস্থতাকারী পক্ষ যদি এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় এবং বিষয়টিকে ইতিবাচক বলে মনে করে, তাহলেও তাঁর আপত্তি নেই।
মধ্যস্থতাকারীদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামি লিগের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে হবে। মীমাংসার প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে প্রথমে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে একটি মৌলিক ভিত্তি তৈরি করা প্রয়োজন। সেই ভিত্তি তৈরি হলে পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা করা যেতে পারে। তবে ‘মধ্যস্থতাকারী’ বলতে তিনি ঠিক কাদের বোঝাচ্ছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
এদিকে আওয়ামি লিগের সঙ্গে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। অনেকে বলছেন, তাহলে কি হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করতে চান খোদ তারেক রহমান? কারণ তাঁর উপদেষ্টার তরফ থেকেই মীমাংসার বার্তা আসছে। যদিও সরকারিভাবে এই নিয়ে কোনও তথ্য সামনে আসেনি।
তবে একইসঙ্গে জাহিদ উর রহমান জানিয়েছেন, এখনই মীমাংসার জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বা শর্ত তৈরি হয়নি। তাঁর দাবি, আওয়ামি লিগের নেতৃত্ব এখনও তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য কোনও অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের উপর হিংসাত্মক দমন-পীড়নের অভিযোগের দিকেই তিনি ইঙ্গিত করেন।
২০২৪ সালের সেই ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। এরপর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসেন। পরে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের দায়িত্ব নেয়। অন্তর্বর্তী প্রশাসন এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারও একাধিকবার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে।
এদিকে চলতি বছরের অগাস্টে শেখ হাসিনা নিজেই জানিয়েছিলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসবেন।
এর আগে অবশ্য আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও কড়া মন্তব্য করেছিলেন জাহিদ উর রহমান। গত ২৩ জুন এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের জন্য মানুষের স্মৃতি মুছে যেতে হবে। এমনকী কটাক্ষ করে তিনি বলেছিলেন, মানুষের ‘ডিমেনশিয়া’ হতে হবে, তবেই আওয়ামি লিগের ফিরে আসা সম্ভব।
শুধু জাহিদ নন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভিও এর আগে একাধিকবার বলেছেন, আওয়ামি লিগ নিজেদের ইতিহাসের ‘আবর্জনার স্তূপে’ ঠেলে দিয়েছে।
সেই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের তথ্য উপদেষ্টার সাম্প্রতিক ‘মীমাংসা’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেছেন, আওয়ামি লিগের পক্ষ থেকে অনুশোচনা ও দায় স্বীকারের মতো প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হলে মীমাংসার প্রক্রিয়া এগোনো সম্ভব নয়। ফলে তাঁর এই মন্তব্য আদৌ বিএনপির বৃহত্তর রাজনৈতিক অবস্থানের কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।