Tarique Rahman India Visit: 'হ্যাঁ, আমাদের মধ্যে মতানৈক্য আছে, কিন্তু...' বাংলাদেশকে তাত্‍পর্যপূর্ণ বার্তা দীনেশের

সেপ্টেম্বরের ১২-১৩ তারিখে ভারতে আয়োজিত হতে চলেছে BRICS সামিটে। সেই সামিটের আউটরিচ BIMSTEC-এ যোগ দিতে তারেক রহমানকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছে দিল্লি। কিন্তু বাদ সাধছে শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ সরকারের দাবি, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের আলোচনার উপরেই নির্ভর করছে তারেকের ভারত সফর। এমনকী গত সপ্তাহে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকও করেন দীনেশ ত্রিবেদী।

Advertisement
'হ্যাঁ, আমাদের মধ্যে মতানৈক্য আছে, কিন্তু...' বাংলাদেশকে তাত্‍পর্যপূর্ণ বার্তা দীনেশেরতারেক রহমান ও দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক - ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • ভারতের তাত্‍পর্যপূর্ণ বার্তা
  • ‘উপযুক্ত পরিবেশ’ তৈরির বার্তা ঢাকার
  • হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য ঘিরে নতুন টানাপোড়েন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ঘিরে যখন নানা টানাপোড়েন চলছে, তখনই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে তাত্‍পর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ঢাকায় আয়োজিত একটি ডিনার পার্টিতে দীনেশের বক্তব্য, দুটি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে মতানৈক্য থাকতেই পারে, কিন্তু নিজেদের দেশের উপকারের জন্য সম্পর্কের অগ্রগতি জরুরি। 

সেপ্টেম্বরের ১২-১৩ তারিখে ভারতে আয়োজিত হতে চলেছে BRICS সামিটে। সেই সামিটের আউটরিচ BIMSTEC-এ যোগ দিতে তারেক রহমানকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছে দিল্লি। কিন্তু বাদ সাধছে শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ সরকারের দাবি, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের আলোচনার উপরেই নির্ভর করছে তারেকের ভারত সফর। এমনকী গত সপ্তাহে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকও করেন দীনেশ ত্রিবেদী।

ভারতের তাত্‍পর্যপূর্ণ বার্তা

ঢাকায় একটি নৈশভোজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী স্বীকার করেন , দুটি সার্বভৌম দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে এবং নিজ নিজ স্বার্থ পূরণের জন্য তাদের নিজস্ব পরিসরের প্রয়োজন। তিনি বলেন, 'উভয় দেশেরই নিজস্ব পরিসর প্রয়োজন এবং আমাদের মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে। আমাদের নিজস্ব যুক্তি আছে, কিন্তু গণতন্ত্রে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলির সমাধান করা সম্ভব।' বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে যোগদানের সম্ভাবনা কার্যত নাকচ করে দেওয়ার পর হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এই বিবৃতি দেন। বাংলাদেশ বলেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের জন্য ভারতকে 'পরিবেশ' তৈরি করতে হবে।

আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার দাবির কারণে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে সৃষ্ট নতুন টানাপোড়েনের ফলে প্রধানমন্ত্রী রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর অনিশ্চয়তায় ঘেরা।

তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

ঢাকায় বাংলাদেশে নিযুক্ত আয়ারল্যান্ডের কনসাল মাসুদ জামিল খান ও তাঁর স্ত্রী কেট জ্যারো খানের আয়োজিত এক স্বাগত নৈশভোজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ত্রিবেদী বলেন, 'বাংলাদেশ ও ভারত দুটি সার্বভৌম দেশ এবং তারা শুধু একটি সীমান্তই নয়, একটি স্বপ্নও ভাগ করে নেয়।' দীনেশের মন্তব্য, 'আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আর যদি চ্যালেঞ্জ না থাকে, তবে তা গণতন্ত্র নয়। সমস্যাগুলির সমাধান কেবল আলোচনার মাধ্যমেই হতে পারে এবং আমার পূর্ণ আশা আছে।' একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারেক রহমান খুব শীঘ্রই ভারত সফরে আসবেন।
বাংলাদেশ 'পরিবেশ' এর উপর জোর দেয়

Advertisement

‘উপযুক্ত পরিবেশ’ তৈরির বার্তা ঢাকার

তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ চলছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক। তবে সফরের জন্য ভারতকে ‘উপযুক্ত পরিবেশ’ তৈরি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র এ কে এম শহিদুল করিম।

এর কয়েক ঘণ্টার পরেই দীনেশ ত্রিবেদীর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারতের হাইকমিশনার বলেন, তাঁর লক্ষ্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের একটি ‘সোনালী যুগ’ তৈরি করা। দীনেশের কথায়, 'আমার লক্ষ্য হল ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি সোনালী যুগ সৃষ্টি করা।' একই সঙ্গে তিনি বলেন, শুধু ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের নয়, গোটা বিশ্বের মানুষের মর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মান নিশ্চিত করাও অভিন্ন লক্ষ্য হওয়া উচিত।

হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য ঘিরে নতুন টানাপোড়েন

গত ৫ অগাস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল মাধ্যমে একটি মিডিয়া আলাপচারিতায় অংশ নেওয়ার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বেড়েছে। ওই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে ঢাকা জানিয়েছিল, এই ধরনের কর্মসূচি বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করতে পারে। যদিও ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, শেখ হাসিনাকে নিয়ে আয়োজিত ওই গণমাধ্যম অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের কোনও ভূমিকা ছিল না। পাশাপাশি সেখানে বাংলাদেশ সরকার সম্পর্কে যে মন্তব্য করা হয়েছে, তার সঙ্গেও ভারত সরকার একমত নয় বলে জানানো হয়েছে।

POST A COMMENT
Advertisement