বাংলাদেশ নিয়ে তসলিমা নাসরিন রাজা নিরোর পথে হেঁটেই কি অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে বসে বাঁশি বাজাচ্ছেন মুহাম্মদ ইউনূস? প্রশ্ন তুললেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভয়ঙ্কর দৃশ্য পোস্ট করেছেন তিনি। যেখানে দেখা যাচ্ছে, বাড়ির পর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে আর প্রাণ বাঁচাতে তারস্বরে চিৎকার করছেন মানুষ।
তসলিমা জানিয়েছেন, এই দৃশ্য বাংলাদেশের পিরোজপুরের জমুরিতলা গ্রামে। সেখানে হিন্দুদের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লেখিকা ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, 'সাহা বাড়িতে ৫টি ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে হিন্দুবিদ্বেষী জিহাদিরা। ভোররাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখনই বাড়িতে আগুন লাগিয়েছিল জিহাদিরা। বাকি যত হিন্দু বাড়ি আছে দেশে এভাবেই কি আগুনে পোড়াবে সব? হিন্দুদের তারা পুড়িয়ে মারতে চায়। এ কারণেই যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখনই আগুন লাগায়।' এরপরই তাঁর ক্ষোভের সুরে প্রশ্ন, 'ইউনূস কি বাঁশি বাজাচ্ছেন?' অর্থাৎ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নির্বিকার মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লেখিকা।
একইসঙ্গে আওয়ামী লিগকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে কীভাবে নির্বাচন হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তসলিমা নাসরিন। তিনি বলেন, 'এখন যে নির্বাচন হচ্ছে, দেশের বড় একটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লিগকে বাদ দিয়ে, নিষিদ্ধ করে। এটি কোন জাতের নির্বাচন? এই নির্বাচন কি বৈধতা পাবে আদৌ? এ তো শেখ হাসিনার করা ২০১৮ সালের প্রহসনের নির্বাচনের মতোই এক নির্বাচন। আসলে এই হাসিনাবিরোধীরা সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করছে হাসিনাকেই। হাসিনাই তাদের শিক্ষক। BNP, NCP, জামাতের মধ্যে আদর্শগত কোনও পার্থক্য নেই। যারাই ভোটে জিতবে, তারাই কোরান সুন্নাহর আইন আনবে। দেশের কোনও রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করাকে একবার মেনে নিলে বারবার মেনে নিতে হবে। এরপর হয়তো BNP-কে নিষিদ্ধ করা হবে। তখন? অন্যায় কোন দল করেনি? খুন খারাবি কোন দল করেনি? সন্ত্রাস কোন দল করেনি? একা আওয়ামী লিগকে দোষ দিলে নিজেকেই ফাঁকি দেওয়া হয়। আওয়ামী লিগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে যেদিন সব দলকে নিয়ে নির্বাচন হবে, সেদিনই হবে বৈধ নির্বাচন, তার আগে নয়।'