
ঢাকায় কুকুর-ঘোড়া পুষলে গুণতে হবে করহঠাৎ করেই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে কুকুর কিংবা ঘোড়ার মতো পোষ্য প্রাণীর উপর কর আরোপ করেছে পুর কর্তৃপক্ষ। চলতি অর্থিক বছর থেকে এসব প্রাণী পুষতে রেজিস্ট্রেশন যেমন করতে হবে, তেমনি গুণতে হবে করও। সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে করপোরেশনের কোনো বাসিন্দা কুকুর পুষলে প্রতিটি কুকুরের জন্য বছরে ৫০০ টাকা কর দিতে হবে। এছাড়া কেউ ঘোড়া বা হরিণ পুষলে প্রতিটির জন্য কর দিতে হবে হাজার টাকা। তবে প্রাণী পালনে এমন কর আরোপে সমালোচনার মুখে পড়েছে সিটি করপোরেশন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেকে শখ করে যেমন কুকুর পোষেন, তেমনি প্রাণীর প্রতি ভালবাসা থেকেও পোষেন অনেকে। অনেকে রাস্তাঘাটে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা কুকুর-বিড়ালকে তুলে এনে স্থান দেন নিজের বাড়িতে। এক্ষেত্রে কর আরোপ হলে ঢাকার রাস্তায় বেওয়ারিশ কুকুরগুলোর প্রতি দয়া দেখানো থেকে নিরুৎসাহিত হবেন অনেকেই।
এমন সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে মনে করছেন পশুপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞরা। এই করকে প্রাণির প্রতি নগরবাসীর ভালোবাসায় কর বসানোর সঙ্গে তুলনা করেছেন তারা। সিটি করপোরেশন আদর্শ কর তফসিল-২০১৬ অনুসারে এই করের নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এর পরিবর্তে ওই প্রারাণি কি সুবিধা পাবে সে বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। এ নিয়েই যত আপত্তি ঢাকার প্রাণিপ্রেমীদের। আবার কেউ কেউ আপত্তি করছেন করের হার নিয়েও।

কর্তৃপক্ষ বলছে, সিটি করপোরেশন আদর্শ কর তফসিল ২০১৬-এর গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কুকুর, হরিণ, ঘোড়া এই তিনটি পোষা প্রাণীর জন্য বার্ষিক কর দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এতদিন করের বিষয়টি কার্যকর ছিল না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোষাপ্রাণী রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, কারো যদি কুকুর, ঘোড়ার মতো প্রাণীর সেল্টার হোম বা ফসটার কেয়ার থাকে, সেই ক্ষেত্রেও কর প্রযোজ্য হবে। এছাড়া কেউ যদি অ্যাকুরিয়ামের মাছ/পশু (বন্যপ্রাণী ব্যতীত) বিক্রির ব্যবসা করেন, তাকেও বড় মাছ/পশু বাবদ ১০০০ টাকা এবং ছোট মাছ/পশু বাবদ ৫০০ টাকা কর দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে এসব পোষা প্রাণীর মালিকদের নিজ নিজ অঞ্চলের রাজস্ব বিভাগের বিবিধ আদায় শাখায় কর এবং এর উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতেও অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে অন্য কোন পোষা প্রাণী যেমন বিড়াল, খরগোশ, গরু, মুরগি, কোনো পাখি, মাছ ইত্যাদি পোষার ক্ষেত্রে কর আরোপের কথা বলা হয়নি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্যানুযায়ী, তাদের আওতায় বর্তমানে ১২৮টি পোষা কুকুর, ১৪৫টি হরিণ ও ৪৬টি ঘোড়া নিবন্ধিত রয়েছে। এসব পোষা প্রাণীর মালিকদের এরইমধ্যে চিঠি দিয়ে কর আরোপের বিষয়টি জানানো হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৭টি পোষা প্রাণীর মালিক এরইমধ্যে কর জমা দিয়েছেন। তবে ঢাকার বেশিরভাগ প্রাণি প্রেমিরা বলছেন, এসব প্রাণির মাধ্যমে কোনো আয় না হলেও, তারা ভালোবেসে সেবা ও আশ্রয় দেন। সে কারণে করের বদলে নগর প্রশাসনেরই উচিত উল্টো তাদেরকে পুরস্কার দেওয়া। তবে উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোষাপ্রাণির জন্য রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও ফি গ্রহণের প্রথা রয়েছে। এর পরিবর্তে তাদের দেওয়া হয় সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধাও। সেই হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রশাসন প্রাণিদের জন্য মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করে টাকা নিলে তাতে দোষ নেই বলে মনে করেন পশুপ্রেমীদের ঢাকার নাগরিকদের অনেকেই।