তারিক রহমান ও এর্দোগানবাংলাদেশে জামাত ই ইসলামি ক্ষমতায় আসেনি ঠিকই, কিন্তু ভুললে চলবে না একদা নিষিদ্ধ এই সংগঠন এখন বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল। ৭৭টি আসন জিতেছে। যার নির্যাস, বাংলাদেশের সংসদে BNP-র যে কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রাভাবিত হবে। বিশেষ করে বিদেশনীতির ক্ষেত্রে। তার ইঙ্গিত মেলাও শুরু হয়ে গিয়েছে।
জামাত যেহেতু পাকিস্তানপন্থী দল, তাই পাকিস্তান, তুরস্কের মতো কিছু মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ফায়দা তোলার চেষ্টা শুরুও করে দিয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এর্দোগান তাঁর ছেলে বিলাল এর্দোগানকে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দিলেন। বিএনপি-র তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ সদ্যই নিয়েছেন। তার ২৪ ঘণ্টা কাটতেই বিলালের ঢাকা সফর বেশ তাত্পর্যপূর্ণ।
বিলালের ঢাকা সফর ভারতের মাথাব্যথার কারণ
অফিসিয়ালই দাবি করা হচ্ছে, এই সফর আসলে তুরস্ক ও বাংলাদেশের ইসলামিক গোষ্ঠীর বন্ধুত্বের প্রতীক। কিন্তু বিলালের ঢাকা সফর ভারতের মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ছেলে বিলাল একটি প্রাইভেট জেটে ঢাকায় পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তুরস্কের প্রাক্তন ফুটবলার মিসাট ওজিল এবং তুরস্ক সরকারের সহায়তা সংস্থা TIKA (Turkish Cooperation and Coordination Agency)-র চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ এরেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, পাসপোর্ট ও কাস্টমস প্রক্রিয়া শেষ করে স্থানীয় সময় সকাল প্রায় সাড়ে ১০টায় প্রতিনিধিদল ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলে ওঠে। প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা রাজধানীতে টিকা-র প্রকল্প সমন্বয় অফিস ঘুরে দেখে।
জামাত ঘনিষ্ঠ প্রকল্পে তুরস্কের বিনিয়োগ
এরপর তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন তৈরি একটি মেডিক্যাল সেন্টারের উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পে অর্থ দিয়েছে টিকা। মেডিক্যাল সেন্টারটি শুরু করেছিল ইসলামি ছাত্র শিবির, যা জামাত ই ইসলামির ছাত্র সংগঠন, ডাকসু নির্বাচনে জয়ের পর। ছাত্র শিবির নেতা সাদিক কায়েম বলেন, 'বিলালের সফর বন্ধুত্বের সম্পর্ককে তুলে ধরছে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরও পরিদর্শন করবেন।' বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর জামাতের সঙ্গে তুরস্কের বাড়তে থাকা ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত।
ভারতের উদ্বেগ কেন?
দক্ষিণ এশিয়ায় টিকা-র বাড়তি সক্রিয়তা ভারতে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্যান-ইসলামিক প্রভাব বাড়ানোর আশঙ্কা গোয়েন্দা মহলে দেখা দিয়েছে। এদিকে পাকিস্তানও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে জামাতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে বলে খবর। অভিযোগ উঠেছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরোক্ষে ভূমিকা রেখেছিল।