বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের দু'বছর, সেই সব ছাত্র নেতাদের কী খবর?

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট। গোটা বিশ্ব দেখেছিল বাংলাদেশের ছাত্র গণ আন্দোলন। এই আন্দোলনের মুখেই পতন হয়েছিল আওয়ামী লিগ সরকারের। দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন ২০২৪ সালে শুরু হয়েছিল, তার প্রভাব এখনও দেশটির রাজনীতি ও জনজীবনে রয়েছে।

Advertisement
বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের দু'বছর, সেই সব ছাত্র নেতাদের কী খবর? তাঁদের আন্দোলনে ক্ষমতা ছাড়তে হয় হাসিনাকে

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট। গোটা বিশ্ব দেখেছিল বাংলাদেশের ছাত্র গণ আন্দোলন। এই আন্দোলনের মুখেই পতন হয়েছিল আওয়ামী লিগ সরকারের। দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন ২০২৪ সালে শুরু হয়েছিল, তার প্রভাব এখনও দেশটির রাজনীতি ও জনজীবনে রয়েছে। 

২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের ফলে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং পরে জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রদের একটি অংশ পরবর্তীতে সংগঠিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছে। আন্দোলনের মূল প্ল্যাটফর্মও সাংগঠনিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে  বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি এখনও সক্রিয়। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের মধ্যে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিছু স্থানে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

আন্দোলনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ৫ আগস্টকে ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি, আলোচনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্ধারিত ভার্চুয়াল বক্তব্যকে ঘিরেও বাংলাদেশ জুড়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সার্বিকভাবে বলা যায়, ছাত্র আন্দোলন এখন আর শুধু একটি আন্দোলনের স্মৃতি নয়, এটি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি, সংস্কার প্রক্রিয়া এবং ছাত্ররাজনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। তবে আন্দোলনকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকের ব্যাখ্যা ও মূল্যায়ন এক নয়, তাই এ বিষয়ে মতভেদও রয়েছে। 

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের যেসব নেতা জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান, তাঁদের অনেকেই এখন সরাসরি রাজনীতি বা জনজীবনের বিভিন্ন ভূমিকায় সক্রিয়। সামগ্রিকভাবে বর্তমান অবস্থান হলো:

নাহিদ ইসলাম: আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে সেই পদ থেকে সরে এসে নতুন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP) গঠনে নেতৃত্ব দেন এবং বর্তমানে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন।

Advertisement

আসিফ মাহমুদ: তিনিও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। পরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য পদত্যাগ করেন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।

মাহফুজ আলম: আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সমন্বয়মূলক ভূমিকায় ছিলেন এবং পরে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেন।

নুসরাত তাবাসসুম: আন্দোলনের অন্যতম নারী সমন্বয়ক। বর্তমানে তিনি NCP-এর যুগ্ম আহ্বায়ক এবং দলটির নারী সংগঠন জাতীয় নারী শক্তি-র প্রধান সংগঠক। তিনি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ: আন্দোলনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সংগঠনের কাঠামোগত পরিবর্তনের সঙ্গে তিনি নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গেও যুক্ত হন।

এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিজেও সাংগঠনিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। ২০২৬ সালে এর আগের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৪ সালের আন্দোলনের অধিকাংশ পরিচিত ছাত্রনেতা এখন আর কেবল ছাত্রনেতা নন, তাঁদের অনেকে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন, কেউ রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন, আবার কেউ নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নিয়ে সরকারি বা সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে  বাংলাদেশে ২০২৪ সালের মতো সরকারবিরোধী সর্বাত্মক ছাত্র আন্দোলন চলছে—এমন পরিস্থিতি নেই। তবে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে ছাত্রদের বিক্ষোভ ও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো:
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন: ভারী বৃষ্টি, জলজমা, প্রশ্নপত্রের ত্রুটি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থা  নিয়ে জুলাই মাসে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। তারা শিক্ষা সংস্কার, পুনঃপরীক্ষার সুযোগ এবং মূল্যায়নে পরিবর্তনসহ ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক আন্দোলন: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, ছাত্র সংসদ নির্বাচন, নিয়োগ এবং অন্যান্য ক্যাম্পাস-সংশ্লিষ্ট দাবিতে বিক্ষোভ ও কর্মসূচি হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকী: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠন সমাবেশ ও কর্মসূচি পালন করছে। একই সময়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্ধারিত ভার্চুয়াল ভাষণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন মূলত শিক্ষা, পরীক্ষা, ক্যাম্পাস প্রশাসন এবং রাজনৈতিক সংস্কার-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে চলছে। ২০২৪ সালের মতো দেশব্যাপী সরকার পতনের লক্ষ্যে একক ছাত্র আন্দোলন এখন দেখা যাচ্ছে না, যদিও ছাত্ররাজনীতি এখনও দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখছে।


 

POST A COMMENT
Advertisement