শপথ নিচ্ছেন নতুন এমপি-রা।-ফাইল ছবিবাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা আজ, মঙ্গলবার শপথ নিতে চলেছেন। ৩০০ আসনের সংসদে এবার ২৯৭ জন সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত ছিল এবং দুটি আসনের ফল আদালতের নির্দেশে ঘোষণা করা হয়নি।
এবার দেখে নেওয়া যাক, একজন সাংসদ কত বেতন ও কী কী সুবিধা পান।
মাসিক বেতন ও ভাতা
বর্তমানে একজন সংসদ সদস্যের মূল মাসিক বেতন ৫৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে বিভিন্ন খাতে একাধিক ভাতা যুক্ত হয়।
নির্বাচনী এলাকা পরিচালনা ভাতা: ১২,৫০০ টাকা
আপ্যায়ন ভাতা: ৫,০০০ টাকা
পরিবহন ভাতা: ৭০,০০০ টাকা (জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতনসহ)
অফিস পরিচালনা ভাতা: ১৫,০০০ টাকা
লন্ড্রি ভাতা: ১,৫০০ টাকা
বিবিধ খরচ: ৬,০০০ টাকা
এ ছাড়া টেলিযোগাযোগ সুবিধা হিসেবে বাড়িতে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। মাসিক টেলিফোন বিল ও কল খরচ বাবদ ৭,৮০০ টাকা বরাদ্দ থাকে।
ভ্রমণ সুবিধা
বিমান, রেল বা নৌপথে যাতায়াতে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা পাওয়া যায়। সড়কপথে কিলোমিটারভিত্তিক ভাতা প্রযোজ্য।
দেশের ভেতরে ভ্রমণের জন্য বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা বা বিকল্প হিসেবে ট্রাভেল পাস দেওয়া হয়।
সংসদীয় কেন্দ্রে অবস্থান করলে দৈনিক ৭৫০ টাকা ভাতা ও ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা মেলে।
সংসদ অধিবেশন বা কমিটির বৈঠকে অংশ নিলে দৈনিক ৮০০ টাকা এবং ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা প্রাপ্য।
চিকিৎসা ও বিমা সুবিধা
সাংসদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পান। মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতাও রয়েছে।
দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার সরকারি বীমা সুবিধা প্রযোজ্য।
এ ছাড়া বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
গাড়ি আমদানির সুবিধা
সাংসদরা শুল্ক, ভ্যাট ও করমুক্তভাবে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করতে পারেন। দায়িত্বকাল পাঁচ বছর পূর্ণ হলে একই সুবিধায় আরেকটি নতুন গাড়ি আমদানির সুযোগও পান।
উল্লেখ্য, মন্ত্রিসভার সদস্যদের বেতন তুলনামূলক বেশি। একজন মন্ত্রী মাসে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী ৯২ হাজার টাকা এবং উপমন্ত্রী ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পান।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো