তারেক ক্ষমতায় আসলে কতটা লাভ হবে সংখ্যালঘুদেরবাংলাদেশে পালাবদল ঘটে গিয়েছে। কোনও বড় চমক নয়, বরং পদ্মাপারে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে BNP. নির্বাচন কমিশনের দেওয়া বেসরকারি ফল অনুযায়ী দলটি সংসদের দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়েছে। এর সরাসরি অর্থ হল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন খালেদাপুত্র তারেক রহমান। কিন্তু এরফলে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও সংখ্যালঘু হিসেবে বাংলাদেশি হিন্দুদের হাল ফিরতে পারে কী?
নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগেই গতকাল ভারতের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ সালে হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক যে তলানিতে ঠেকেছিল,তা স্বাভাবিক করতে নয়াদিল্লি আগ্রহী। ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, তারেক রহমানের BNP অবশ্যই জামাতের মতো আদর্শগতভাবে কট্টর ইসলামপন্থী শক্তির তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি উদার।
তারেক-ই বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন ধরে নেওয়া হলে, যে প্রশ্নগুলি উঠে আসে, তা হল-
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি ও ভারতের গুরুত্ব
১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসনে থাকার পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরে তারেক রহমান যে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন, তা আপাতত ভারতের পক্ষে ইতিবাচক। তিনি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথা বলেছেন, যা অনেকটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’-এর আদলে।
তারেক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভারত, চিন ও পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে বাংলাদেশ সমান দূরত্ব বজায় রেখে চলবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঢাকা পাকিস্তান ও চিনের দিকে বেশি ঝুঁকছিল, ফলে তারেকের এই অবস্থান ভারতের কাছে আপাতত স্বস্তিদায়ক।
ভারত ছাড়া বাংলাদেশের উপায় নেই
বাস্তবতা অনুযায়ী ভারত ছাড়া বাংলাদেশের চলবে না। কারণ, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দ্যুৎ, বাণিজ্য, ট্রানজিট, নদী জল, রেল-সড়ক যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই ভারত বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।
ভারতের আগাম কূটনৈতিক চাল
গত বছর তারেকের মা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের পক্ষ সহায়তার প্রস্তাব দেন। বিএনপিও সেই বার্তার কৃতজ্ঞতা জানায়। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ছিলেন ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর প্রথম ভারতীয় মন্ত্রী হিসেবে ঢাকা সফর করেন। সেখানেই তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং PM মোদীর ব্যক্তিগত চিঠিও তুলে দেন। এছাড়াও, শুক্রবার তারেক রহমানকে অভিনন্দনও জানান নরেন্দ্র মোদী। তিনি লেখেন “আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে চাই।” নয়াদিল্লির এহেন পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে, পদ্মাপারের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে ভারত।
বাংলাদেশি হিন্দুদের অবস্থা কেমন?
তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর তিনি কি বাংলাদেশে অত্যাচারিত সংখ্যালঘু হিন্দুদের পাশে দাঁড়াবেন? এখন এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি তারেক বাস্তববাদী হন এবং ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান, তাহলে বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা, ভূমি অধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা তাঁর সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক ইস্যু হবে। কারণ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল সূচকই হল সংখ্যালঘুদের অবস্থা। ওপার বাংলায় যতবার সংখ্যালঘু অত্যাচারিত হয়েছে, ততবার ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক বিগড়েছে। ফলে এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তারেককে।
সম্প্রতি খালেদাপুত্র নিজের ভাষণে বলেছেন, “আমি সবার জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই।” পাশাপাশি তিনি বলেন, “ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়, কিন্তু রাষ্ট্র সবার।” তাঁর এই বক্তব্য ঘিরেই আশাবাদী বাংলাদেশি হিন্দুরা। মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৮ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর যে টানা হামলা চালানো হচ্ছে, তারেক ক্ষমতায় এলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ভারত নিয়ে BNP-তারেক কোথায় কঠোর?
তিস্তা নদীর জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে তারেক কোনও রকম আপস করতে রাজি নন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিস্তা ও পদ্মা নদীর ন্যায্য জল পাওয়া বাংলাদেশের 'জাতীয় অস্তিত্বের প্রশ্ন'।