Nana Patekar : দরদর করে ঘামছিলেন, ৪৫ মিনিট ধরে CPR দিয়েও কেন বাঁচানো গেল না অভিনেতাকে?

পাটেকরের বাড়িতে পৌঁছে তাঁর বন্ধু অভিনেতার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে দেখেন। এরপর অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করার জন্য কেয়ারটেকারকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর জরুরি চিকিৎসা দল পাটেকরের বাড়িতে পৌঁছয়।

Advertisement
দরদর করে ঘামছিলেন, ৪৫ মিনিট ধরে  CPR দিয়েও কেন বাঁচানো গেল না অভিনেতাকে? নানা পাটেকর
হাইলাইটস
  • ভারতীয় সিনেমার অন্যতম প্রশংসিত অভিনেতা ছিলেন নানা পাটেকর
  • চার দশকেরও বেশি সময়ের কেরিয়ারে তিনি হিন্দি ও মারাঠি দুই ভাষার ছবিতেই অভিনয় করেছেন

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ভোররাতে বুকে ব্যথার কথা জানিয়ে এক বন্ধুকে মেসেজ করেছিলেন অভিনেতা নানা পাটেকর। মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শেখর সালকারের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিনেতা তাঁর বন্ধুকে জানিয়েছিলেন, তিনি ভালো বোধ করছেন না। ভোর ৪টা নাগাদ সেই বন্ধু পাটেকরের গোয়ার বাড়িতে পৌঁছন। তখন অভিনেতা দরদর করে ঘামছিলেন। জ্ঞানও হারাচ্ছিলেন। 

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে কী ঘটেছিল? সেই বিষয়ে চিকিৎসক সালকার জানান, রাত আড়াইটে নাগাদ বন্ধুকে মেসেজ করেছিলেন পাটেকর। যেহেতু তখন গভীর রাত, তাই তাঁর বন্ধু সঙ্গে সঙ্গে মেসেজটি দেখতে পারেননি। এরপর তিনি পাটেকরকে ফোন করেন।

সংবাদমাধ্যমকে জানান চিকিৎসক সালকার বলেন, 'আমাদের যতদূর মনে পড়ছে, রাত আড়াইটে নাগাদ তিনি তাঁর বন্ধুকে মেসেজ করে জানিয়েছিলেন যে তিনি ভালো বোধ করছেন না। কিন্তু যেহেতু তখন রাত ছিল, তাঁর বন্ধু মেসেজটি দেখতে পারেননি। তাই তিনি তাঁকে ফোন করেন। ভোর ৪টা নাগাদ তিনি তাঁর বাড়িতে পৌঁছন। ততক্ষণে তিনি ঘামছিলেন এবং ধীরে ধীরে জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। তথনই তাঁর চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তিনি ধীরে ধীরে অচেতন হয়ে পড়ছিলেন নানা।'  

নানা পাটেকরের শেষ সময়

পাটেকরের বাড়িতে পৌঁছে তাঁর বন্ধু অভিনেতার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে দেখেন। এরপর অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করার জন্য কেয়ারটেকারকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর জরুরি চিকিৎসা দল পাটেকরের বাড়িতে পৌঁছয়। চিকিৎসক সালকার জানান, চিকিৎসকরা পৌঁছনোর সময় অভিনেতা আর সাড়া দিচ্ছিলেন না। ফলে সেখানেই শুরু হয় CPR বা কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন।

ভোর ৪টা ২০ মিনিট নাগাদ পাটেকরকে গোয়ার মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরও তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যান চিকিৎসকরা।

প্রায় ৪৫ মিনিট CPR, তবুও বাঁচানো গেল না

চিকিৎসক সালকার জানান, প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে কার্ডিয়াক ম্যাসাজ এবং CPR চালানো হয়। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও অভিনেতাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ভোর ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পাটেকর মণিপাল হাসপাতালের নথিভুক্ত রোগী ছিলেন না। ফলে বিষয়টি মেডিকো-লিগ্যাল কেস হিসেবে নেওয়া হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর দেহ গোয়া মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়।

Advertisement

চিকিৎসক জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ হাসপাতালের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্ত এবং পুলিশের তদন্তের পরই তাঁর মৃত্যুর পরিস্থিতি ও কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। 

ভারতীয় সিনেমার অন্যতম প্রশংসিত অভিনেতা ছিলেন নানা পাটেকর। চার দশকেরও বেশি সময়ের কেরিয়ারে তিনি হিন্দি ও মারাঠি দুই ভাষার ছবিতেই অভিনয় করেছেন। 

POST A COMMENT
Advertisement