
নানা পাটেকরের পরিবারবর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ভারতের বিনোদন জগত্। আজ অর্থাত্ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে নানা পাটেকরকে মৃত ঘোষণা করে গোয়ার মনিপাল হাসপাতাল।
জানা যাচ্ছে, নানার বুকে তীব্র ব্যথা হচ্ছিল। তাই নানা পাটেকরের ফ্ল্যাটে যায় মেডিক্যাল টিম। গিয়ে দেখা যায়, নানা পাটেকর অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছেন। কার্ডিয়াক ম্যাসাজ দিয়েও কোনও লাভ হয়নি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। নানার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন নানার ছেলে মল্হার পাটেকর। নানা পাটেকরের পরিবারে কে কে রয়েছেন?
ক্যারেক্টার আর্টিস্টকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন
বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকর 'পরিন্দা', 'ক্রান্তিবীর', 'অগ্নিসাক্ষী' এবং 'ওয়েলকাম'-এর মতো বহু সিনেমায় শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য দর্শকদের অতি প্রিয়। ক্যারেক্টার আর্টিস্ট যে একটি গোটা সিনেমাকে একার দক্ষতায় টানতে পারেন, তা দেখিয়েছেন নানা পাটেকর। অভিনেতা পরেশ রাওয়াল একটি ইন্টারভিউতে বলেছিলেন, 'নানা পাটেকর বলিউডের প্রথম ক্যারেক্টর আর্টিস্ট, যাঁর ১ কোটি টাকা পারিশ্রমিক ছিল একদা।' পর্দায় তাঁর স্পষ্ট উচ্চারণ এবং শক্তিশালী সংলাপ বলার ভঙ্গির জন্য তিনি প্রায়শই আলোচনায় থাকলেও, বাস্তব জীবনে নানা পাটেকর তাঁর পরিবারকে প্রচারের আলো থেকে দূরে রেখেছিলেন। তাঁর আসল নাম ছিল বিশ্বনাথ পাটেকর এবং তিনি মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার মুরুদ-জঞ্জিরায় একটি মারাঠি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

নানা পাটেকারের পরিবার
নানা পাটেকরের বাবা দিনকর পাটেকর একজন বস্ত্রশিল্পী ছিলেন এবং একটি ছোট ব্যবসা চালাতেন। তাঁর মা সঞ্জনাবাই পাটেকর ছিলেন একজন গৃহবধূ। শৈশবে নানা পাটেকরকে আর্থিক কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়েছিল, কিন্তু নিজের কঠোর পরিশ্রম ও প্রতিভার মাধ্যমে তিনি বলিউডে নিজের একটি স্বতন্ত্র স্থান করে নেন।

স্ত্রী নীলকান্তি পাটেকরের সঙ্গে সম্পর্ক
নানা পাটেকরের স্ত্রী নীলকণ্ঠী পাটেকর মারাঠি চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত। তিনি একজন অভিনেত্রী ও প্রযোজক ছিলেন। চলচ্চিত্র জগতেই দুজনের পরিচয় হয় এবং পরে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। যদিও তাঁরা কিছু বছর আলাদাভাবে বসবাস করেছিলেন, তাঁদের সম্পর্ক আইনত অটুট ছিল এবং তাঁরা কখনও জনসমক্ষে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা করেননি।
পুত্র মলহার পাটেকর
বিয়ের পর নানা পাটেকর ও নীলকণ্ঠী দুই পুত্রসন্তানের বাবা-মা হন। তাঁদের বড় ছেলে দুর্বাসা দুই বছর বয়সে অসুস্থ হয়ে মারা যায় এবং তাঁদের ছোট ছেলে মলহার পাটেকর সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন এবং অভিনয়েও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। বাবার মতোই মলহারও প্রচারের আড়ালে থাকতে পছন্দ করেন এবং তাঁকে সামাজিক মাধ্যমে খুব কমই দেখা যায়। নানা পাটেকর প্রায়শই তাঁর বদমেজাজ ও স্পষ্টভাষিতার জন্য পরিচিত, কিন্তু পারিবারিক বিষয়ে তিনি ছিলেন ভিন্ন। সিনেমার বাইরে অবসর সময়ে তিনি কৃষিকাজ, সমাজসেবা এবং কৃষকদের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। নানা পাটেকারের পরিবার তারকাখ্যাতির চাকচিক্য থেকে দূরে এক অনাড়ম্বর ও ব্যক্তিগত জীবনযাপনের উদাহরণ।