রানি মুখোপাধ্যায়বলিউডের অন্যতম সেরা অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন রানি মুখোপাধ্যায়। তাঁর ফ্যানেদের সংখ্যা বিপুল। দর্শক এখনও অপেক্ষা করে থাকেন রানির ছবির জন্য। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে রানির ছবি 'মর্দানি ৩'। এছবিতে ফের অভিনেত্রীর নির্ভীক রূপ দেখা গেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রানি জানিয়েছেন, কীভাবে চলচ্চিত্র জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। তিনি সেই সময়ের কথা বলেন যখন, দ্বিতীয় সন্তানকে হারিয়েছিলেন। চলচ্চিত্র, রানিকে এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল।
তারকাদের জীবন নিয়ে সাধারণ মানুষের বরাবর কৌতূহল অনেক বেশী। তাঁদের পছন্দ - অপছন্দ নিয়েও ফ্যানেদের মাঝে চর্চা কম হয় না। তারকাদের ডেটিং, সম্পর্ক বা বিয়ে, কে-কোথায়-কখন কার সঙ্গে যাচ্ছেন, ইত্যাদি সবচেয়ে বেশি চর্চায় থাকে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেই রানি। ফলস্বরূপ রানির জীবনে বেশি উঁকিঝুঁকি দিতে পারেন না ভক্তরা। এবার নিজের অজানা সিক্রেট শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথনের সময় রানি 'মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে' ছবির উদাহরণ দেন। অভিনেত্রী বলেন, তিনি সবসময় এমন গল্প বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন যা প্রভাবশালী এবং সমাজে আলোচনার জন্ম দেয়।
'মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে' ছবিটি তাঁর কাছে এমন এক সময়ে এসেছিল, যখন তিনি ব্যক্তিগত ক্ষতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিটি রানির জন্য একটি জাতীয় পুরস্কার এনে দিয়েছে। এই ছবিটি তাঁর কাছে যখন এসেছিল, যখন তিনি দ্বিতীয় সন্তানের গর্ভপাতের যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এটি ছিল ২০২০ সালের ঘটনা। এটিও একটি বিশেষ কারণ ছিল যে তিনি 'মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে'-এর গল্পের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ স্থাপন করতে পেরেছিলেন। কারণ সেসময় তিনি একটি আবেগঘন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন।
রানি বলেন, "সেই গল্প, সেই ছবিটি আমার কাছে এসেছিল যখন আমি আমার দ্বিতীয় সন্তানকে হারিয়েছিলাম। এটি ছিল এক ক্ষতির সময়। গল্পটায় এতটাই প্রভাবিত হয়েছিলাম যে আমি বলেছিলাম, আমায় এই গল্পটি বলতেই হবে।" কীভাবে একজন মা তার সন্তানের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করে, 'মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে' ছবিতে সেই গল্পই ফুটে উঠেছিল। রানির মতে, এই চরিত্রটি শুধুমাত্র তাঁর বেদনাকেই লাঘব করেনি, সেই সঙ্গে সমাজের গভীরতর বাস্তবতাগুলোকেও উন্মোচিত করেছে। বিদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলো কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয় এবং বিশেষ করে মায়েদের উপর এর মানসিক প্রভাব নিয়ে কথা বলেন রানি।
তিনি বলেন, "আমি এই গল্পটির মাধ্যমে ভারতকে বলতে চাই এবং তাদের দেখাতে চাই যে, বিদেশে গিয়ে সেখানে স্থায়ী হওয়া নিয়ে আমাদের যে মোহ, ধারণা আছে, তা সত্যি নয়। সত্যিটা অনেকটা ভিন্ন। আমি দেখাতে চাই যে একজন মা তার সন্তানদের ছাড়া কীসের মধ্যে দিয়ে যান, এবং যখন কেউ আপনার চোখের সামনে থেকে আপনার সন্তানকে কেড়ে নেয়, তখন মা এবং সন্তানরা কীসের মধ্যে দিয়ে যায়।"
প্রসঙ্গত, 'মর্দানি ৩'-র আগে রানি মুখোপাধ্যায়কে শেষ দেখা গিয়েছিল 'মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে' ছবিতে। এই ছবিতে তাঁর সঙ্গে দেখা গেছে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য ও জিম সার্ভকে। রানি ও তাঁর স্বামী আদিত্য চোপড়ার এক কন্যা সন্তান রয়েছে। আদিরার জন্ম হয় ২০১৫ সালে। ২০২৩ সালে রানি প্রকাশ করেন, যে তিনি প্রথমবার গর্ভপাতের শিকার হয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ২০২০ সালে তাঁর দ্বিতীয় গর্ভাবস্থার পঞ্চম মাসে গর্ভপাত হয়েছিল।