
নিজের বাড়িতে রানু রানু মণ্ডল। মনে পড়ছে নামটা? এই তো কয়েক বছর আগেই এমন ভাইরাল হয়েছিল তাঁর গান যে রাজ্য, দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও শোনা যেত। তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল প্রবাহিত হয়েছে। এখন আর প্রচারের আলোর ধারেকাছে নেই রানু। তাঁর গানও শোনা যায় না আর। অথচ এই রানু মণ্ডল উঠে এসেছিলেন রানাঘাট স্টেশন থেকে। সেখানে বসে গাওয়া 'এক পিয়ার কা নগমা' গান সব্বার মন জয় করে নিয়েছিল।
২০১৯ সালে সেই গান ভাইরাল হওয়ার পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি রানুকে। হিমেশ রেশমিয়ার ছবিতে 'তেরি মেরি' গানটি গেয়েছিলেন। বিপুল জনপ্রিয়তাও পান। একের পর এক রিয়ালিটি শোতেও ডাক পেতে থাকেন। দু হাতে টাকা আসতে থাকে। তাঁর শোয়ের ডিমান্ড আরও বেড়ে যায় বাংলাদেশের অভিনেতা হিরো আলমের সঙ্গে কাজ করতে থাকার পর। কিন্তু এখন কী হাল রানু মণ্ডলেন? কী করেন তিনি? কেন প্রচারের আলো থেকে সম্পূর্ণ হারিয়ে গেলেন?
সম্প্রতি গায়িকাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছেন ইউটিউবার নিশা তিওয়ারি। আর তা দেখলেই বোঝা যাবে, খ্যাতি-যশ-অর্থ কত ক্ষণস্থায়ী। এক সময় যে রানু রাজ্য তথা দেশের নানা প্রান্তে গানের অনুষ্ঠানে ঘুরে বেড়াতেন, বড় হোটেলে থাকতেন সেই তিনিই এখন বসবাস অযোগ্য একটি বাড়িতে থাকেন।

সেই ভিডিওতে দেখা যায়, কোলাপসেবল গেটের ওপারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বহু জিনিস। মেঝেতে ঘুরে বেড়াচ্ছে তেলেপোকা। ইউটিউবারের ভাষায়, 'ঘরে চারদিকে আবর্জনা। বাথরুমের দুর্গন্ধ। মেঝেতে পড়ে রয়েছে আটা, নুন ও অন্য সামগ্রী।' এভাবে মেঝেতে কেন জিনিসপত্র পড়ে? উত্তরে রানু ইংরেজিতেই জানান, তাঁর কাছে পাত্র নেই। আর তিনি নাকি ইংরেজি শিখেছেন মুম্বইয়ে থাকার সময়।
ভিডিওতে দেখা যায় ওই ইউটিউবার রানুকে খাবার, জুসের বোতল দিচ্ছেন। গায়িকা তা খেতেও শুরু করেন। তখনই বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একজন বলেন, 'ও পাগল। মানসিক সমস্যা আছে।'

আসলে রানু মণ্ডল ভালো নেই, অভাবে দিন কাটছে, কোনওরকমে বেঁচে আছেন, সাফ জানান ওই ইউটিউবার। তাঁর কথায়, 'রানু মণ্ডল একেবারেই সুস্থ অবস্থায় নেই। নিজে কিছু বুঝতে চান না বা মনেও রাখতে পারেন না। কখনও বলেন, তিনি অনেক অনেক টাকা রোজগার করেছেন আবার পরক্ষণেই জানান, প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এমনকী মিনিট পাঁচেক আগে বলা কথাও ভুলে যান। যার এমন মানসিক অবস্থা তাঁকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা কঠিন।'
হিমেশ রেশমিয়ার সম্পর্কে যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয় তখন বলেন, 'আরে হিমেশকে রিস্ক নিতে হয়েছিল তাই ও নিয়েছিল।'
ফলে রানুর বেঁচে থাকা, ভরণ-পোষণ এখন সবটাই নির্ভর করে তাঁকে দেখতে আসা লোকজনের উপর। কেউ খাবার, জলের বোতল ইত্যাদি নিয়ে এসে দিলে তবেই খেতে পান। এভাবেই চলে। সেদিনই একজন মহিলা এসে জানান, রানু মণ্ডলের একটি দোকানে নাকি ২৩৫ টাকা দেনা আছে।
রানুর গান যখন রেকর্ডিং করা হয়েছিল, তখন তাঁর মেয়ের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ হয়েছিল। সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল মা-মেয়ের। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এখন আবার সেই আগের অবস্থায় গায়িকা। তাঁর কেউ খোঁজ রাখে না। সেই আগেই মতোই বাড়িতে একা একা থাকেন।
যখন গানের দুনিয়ায় মধ্য গগনে তখনও রানু বিতর্কে জড়িয়েছিলেন একাধিকবার। ২০১৯ সালের নভেম্বরে তাঁর একটি ভিডিও প্রকাশ অনুষ্ঠানে এক ফ্যানের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছিলেন। শ্রীলঙ্কান গায়িকা ও বাংলাদেশের গায়কের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি।
২০২২ সালে হিরো আলমের সঙ্গে ভিডিও রেকর্ডিং করেছিলেন রানু। সম্ভবত সেটাই তাঁর শেষ ভিডিও। তারপর থেকে আর প্রচারে নেই তিনি। বলা ভালো, মিডিয়া, ইন্টারনেট তো অনেক দূরের কথা, ব্যক্তিগত জীবনেও কোনওরকমে বেঁচে আছেন তিনি।