মুস্তাক খান 'মেরি এক টাঙ্গ নকলি হে। মে হকি কা বহত বড়া খিলাড়ি থা। একদিন উদয় ভাই কো মেরি কিসি বাত পর ঘুসসা আ গিয়া তো মেরি হক স্টিক সে মেরি হি টাঙ্গকে চার টুকরে কর দিয়ে। লেকিন ও দিলকে বহত আচ্ছে হে, ফরেন হসপিটাল লেকে গেয়ে। অপারেশন কর বায়া। নয়ি টাঙ্গ লাগওয়া। ইয়ে স্টিক দি। থোড়া থরচা দি অর....'। এই বিখ্যাত সংলাপের কথা কার না মনে নেই। নানা পাটেকর ও অনিল কাপুর অভিনীত 'ওয়েলকাম' সিনেমার এই দৃশ্য আলাদাভাবে নজর কেড়েছিল দর্শকদের। সেই মুশতাক খান আর নেই। মারা গেলেন তিনি। বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৬ বছর।
তাঁর ঝুলিতে আছে ‘ওয়েলকাম’, ‘আশিকি’, ‘মুজসে শাদি করোগি’ এবং ‘হাম হে রাহি পেয়ার কে’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় হিন্দি ছবি। লিভার ক্যানসারের চিকিৎসা চলছিল তাঁর। গত প্রায় ১৫ দিন ধরে মুম্বইয়ের নানাবতী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন অভিনেতা। সেখানেই আজ তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
মুস্তাক খানের ব্যবসায়িক অংশীদার শিবম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। জানা গিয়েছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রথমবার ক্যানসার ধরা পড়েছিল অভিনেতার। সম্প্রতি ফের সেই রোগ ফিরে আসে। এরপরই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা চলছিল।
অভিনেতার শেষকৃত্য আগামীকাল হওয়ার কথা। তবে কোথায় এবং কখন শেষকৃত্য হবে, সেই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
প্রায় তিন দশকের অভিনয় জীবন
'ওয়েলকাম' ছবিতে প্রতিবন্ধী হকি খেলোয়াড়ের চরিত্রে অভিনয় করে আরও বেশি পরিচিতি পান মুস্তাক। কমেডি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি।
মধ্যপ্রদেশে জন্ম
মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলার বাইহার শহরে জন্ম মুস্তাক খানের। মুসলিম পরিবারে জন্ম তাঁর। পরবর্তীকালে হিন্দি সিনেমায় দীর্ঘদিন কাজ করে একজন পরিচিত সাপোর্টিং অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
অপহরণের ঘটনাতেও শিরোনামে এসেছিলেন
২০২৪ সালের নভেম্বরেও খবরের শিরোনামে এসেছিলেন মুস্তাক খান। একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা বলে তাঁকে উত্তরপ্রদেশে ডেকে নিয়ে অপহরণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০ নভেম্বর তাঁকে অপহরণ করে দিল্লি থেকে বিজনোরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিনেতাকে প্রায় ২.২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিতে বাধ্য করা হয়। তবে একদিন পর সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন মুস্তাক খান। ঘটনাটি নিয়ে সে সময় যথেষ্ট চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল।
এবার লিভার ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর প্রয়াত হলেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। তাঁর মৃত্যুতে হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে শোকের আবহ।