
সেতারবাদক হিসাবে পরিচিতি তৈরি করেছেন ঋষভ শর্মা। পণ্ডিত রবিশঙ্করের থেকে তালিম নিয়েছেন তিনি। রবিশঙ্করের কনিষ্ঠতম শিষ্য ছিলেন ঋষভ। ছেলেবেলা থেকেই সঙ্গীতজগতের সঙ্গে যুক্ত ঋষভ। দিল্লির খ্যাতনামী সেতার প্রস্তুতকারক সংস্থার মালিকানা রয়েছে তাঁর পরিবারের। মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবার কাছে সেতার শিখতে শুরু করেন ঋষভ। ২০১১ সালে মঞ্চে প্রথম সেতার বাজিয়ে পারফর্ম করেন।

সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঋষভ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। দেশ-বিদেশের নানা জায়গায় পারফর্ম করেন ঋষভ। এছাড়াও ইউটিউবে নিজস্ব চ্যানেল রয়েছে তাঁর। সেখানে তাঁর বিপুল সংখ্যক শ্রোতা রয়েছে। ঋষভ তাঁর জাদুকরী সুরের পাশাপাশি অনন্য স্টাইলের জন্যও সুপরিচিত। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন তিনি, যেখানে শিল্প ও আধ্যাত্মিকতার এক চমৎকার সংমিশ্রণ ফুটে উঠেছে।

এই ছবিগুলোতে ঋষভের হাতের স্বতন্ত্র ট্যাটু নকশা এবং তাঁর পরিচ্ছদ সবার নজর কেড়েছে। এটি কেবল একটি ফ্যাশন স্টেটমেন্ট বা স্টাইলের বহিঃপ্রকাশ নয়। এর পিছনে রয়েছে গভীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য-যা ঋষভ অত্যন্ত নিপুণভাবে তাঁর শিল্পের সঙ্গে মিলিয়েছেন।

ঋষভের শেয়ার করা ছবিগুলোতে তাঁর পুরো হাত জুড়ে আঁকা ট্যাটুর নকশাটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এই নকশাটি মহাদেব শিব এবং রামায়ণের বিভিন্ন চরিত্রের দ্বারা অনুপ্রাণিত। এতে 'নটরাজ'-এর প্রতিকৃতি রয়েছে, যিনি মহাজাগতিক নৃত্য ও শক্তির প্রতীক।

এছাড়াও, এই নকশায় রক্তকমল (যা রাবণের প্রিয় ফুল বলে মনে করা হয়) এবং বেলপাতার চিত্র রয়েছে। এগুলি মহাদেবের আরাধনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, ঋষভ তাঁর সঙ্গীতচর্চাকে ঈশ্বরের প্রতি এক ধরণের আরাধনা বা ভক্তি হিসেবেই গণ্য করেন।

ট্যাটুর নকশাটিতে সেতারের তারগুলোকে ঢেউয়ের আদলে চিত্রিত করা হয়েছে, যা বাদ্যযন্ত্রটির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার প্রতীক। এতে কৈলাস পর্বত এবং বাতাসের প্রবাহের একটি নকশাও স্থান পেয়েছে। বাতাসের এই নকশাটি পবনপুত্র হনুমানের প্রতিনিধিত্ব করে। সবশেষে, এতে একটি শঙ্খের নকশাও চোখে পড়ে।

ছবিগুলোতে ঋষভকে সোনালি রঙের ধাতব বর্মের মতো দেখতে একটি পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়, যা তাঁকে একজন আধুনিক যোদ্ধা কিংবা এক দিব্য শিল্পীর রূপ দিয়েছে। ছবিগুলো শেয়ার করে ঋষভ লিখেছেন, "এটিই আমার 'লুক' বা বেশভূষা। যাকে আমি 'শান্তির যোদ্ধা' বলে অভিহিত করি। এটি আমার কাছে কেবল একটি পোশাক নয়। এটি আমার অন্তরে লালিত একটি গভীর অনুভূতি।"

শিল্পী লেখেন, "মহাদেব শিব দ্বারা অনুপ্রাণিত এই বেশটি আমার পরিহিত বর্মের প্রতীক। এই বর্ম বিশ্বজগতের সঙ্গে লড়াই করার জন্য নয়, বরং এই পৃথিবীর পথে চলতে গিয়েও নিজের অন্তরে স্থির ও শান্ত থাকার জন্য। তাঁর আশ্রয়ে আমি নিজেকে নিরাপদ, সঠিক পথে পরিচালিত এবং এক প্রকার অজেয় বলে অনুভব করি।"

নিউ ইয়র্কে গিয়ে সঙ্গীত নিয়ে পড়াশোনা করেন ঋষভ। সঙ্গীত প্রযোজনা এবং অর্থনীতি নিয়ে পড়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন ২৪ বছর বয়সী শিল্পী। তিনিই প্রথম ভারতীয় সেতারবাদক, যাঁকে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন হোয়াইট হাউসে। সেখানে দীপাবলি উপলক্ষে একক অনুষ্ঠান করার সুযোগ পান তিনি। টেক্সাসের এনজিআর স্টেডিয়ামের মঞ্চে ভারতের প্রথম সেতারবাদক হিসাবে ৬০ হাজার দর্শকের সামনেো পারফর্ম করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ঋষভের।

এছাড়াও, ঋষভ শর্মার বিচ্ছেদের খবরটিও সম্প্রতি সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, বলিউড অভিনেত্রী সানিয়া মালহোত্রার সঙ্গে প্রায় এক বছর প্রেম করার পর বিচ্ছেদ হয় জুটির।