প্রিজন ভ্যানে ইমরানের সঙ্গে বসে জায়েনজ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে শনিবার ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রাজধানী দিল্লি। CJP-এর বিক্ষোভের সমর্থনে মুম্বইয়ের অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন আমির খানের ভাইঝি জায়েন মেরি খান। অভিনেতা ইমরান খান ও তাঁর প্রেমিকার সঙ্গেই মুম্বই পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন জায়েনও। কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করেন জায়েন। যেখানে তিনি তাঁর শরীরের আঘাতগুলি সকলের সামনে তুলে ধরেন।
জায়েন সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়া ভিডিওতে তাঁর হাত, আঙুল ও পায়ে লাগা চোট প্রকাশ্যে আনেন। মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিওটি। অতঃপর বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ এবং আটকের পরিস্থিতি নিয়ে উঠছে নানান প্রশ্ন। ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে জায়ান বলেন, আমাদেরকে এতটা ভয় দেখাবেন না যে আগে থেকেই কোনও ভয় অবশিষ্ট না থাকে। ক্যাপশনে লেখা, তিনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে তুলে ধরবেন। জায়ানের এই আঘাত কী করে লাগল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে জায়েনের এই পোস্ট মুম্বইয়ের বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তা বলাই বাহুল্য।
শনিবার মুম্বইয়ের এই ময়দান থেকে আটক করা হয় আমির খানের বোনপো ইমরান খান ও তাঁর প্রেমিকাকে। প্রিজন ভ্যানে তাঁকে তোলার ভিডিও ভাইরাল হয় নিমেষে। শনিবার আটক হওয়ার পর সোশাল মিডিয়ায় নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন ইমরান ও তাঁর বান্ধবী। পুলিশের ভ্যানের ভিতরে বসে থাকা নিজের একটি ছবি পোস্ট করে মজার ছলে লেখেন, ‘মনে হচ্ছে, আমাকে গাড়ি করে ঘোরাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে’! সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া অন্য একটি ভিডিওতে পুলিশকর্মীদের উদ্দেশ্যে জয় হিন্দ স্লোগান দেন ইমরান। সেই সঙ্গে আরও বলেন, কেন আমাকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে তা আমি জানি না। ওঁরা আমাদের রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এসে ভ্যানে বসতে বলে।
ইমরান এও জানান যে প্রায় দু ঘণ্টা ধরে পুলিশের ভ্যানে ঘুরিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের ভ্যানে ওঠার আগে ইমরান স্পষ্ট করে দেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে বিক্ষোভে যোগ দেননি। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই তিনি এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। জানা গিয়েছে, অগাস্ট ক্রান্তি ময়দান ও আশপাশের নানা জায়গা থেকে মুম্বই পুলিশ ৪০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে আচক করে। তাঁদের মধ্যে ইমরান ও জায়েনও ছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ক্যাম্পেইন ফর জুডিশিয়াল অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড রিফর্মস’-এর সমর্থনের জন্য মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী এই সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন।