Sahitya Aajtak 2024: শিল্পীদের মধ্যে হিংসা নেই, খুব স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগীতা আছে:অভিজিৎ

Abhijeet Bhattacharya: মূলত হিন্দি ছবির প্লেব্যাক গায়ক হিসাবে পরিচিত হলেও, বাংলা, মারাঠি, অহমিয়া, তামিল, নেপালি, ভোজপুরি, পাঞ্জাবি, ওড়িয়া গান গেয়েছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বাংলাদেশের জন্যেও গেয়েছেন একাধিক গান। কথা হচ্ছে  অভিজিৎ ভট্টাচার্যকে নিয়ে।

Advertisement
শিল্পীদের মধ্যে হিংসা নেই, খুব স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগীতা আছে:অভিজিৎ অভিজিৎ ভট্টাচার্য

নয়ের দশকে তাঁর গানগুলি আজও প্রিয় প্লেলিস্টে থাকে শ্রোতাদের। শাহরুখ খানের বহু ছবির নেপথ্য গায়ক ছিলেন তিনি। মূলত হিন্দি ছবির প্লেব্যাক গায়ক হিসাবে পরিচিত হলেও, বাংলা, মারাঠি, অহমিয়া, তামিল, নেপালি, ভোজপুরি, পাঞ্জাবি, ওড়িয়া গান গেয়েছেন তিনি। মাতৃভাষা বাংলা। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বাংলাদেশের জন্যেও গেয়েছেন একাধিক গান। কথা হচ্ছে  অভিজিৎ ভট্টাচার্যকে নিয়ে।

১০০০টিরও বেশি ছবিতে প্রায় ৬০০০-এর বেশি গান গেয়েছেন শিল্পী। এবার সাহিত্য আজতক কলকাতা ২০২৪ (Sahitya Aajtak Kolkata 2024), সাহিত্য চর্চার এই মহামিলনের আসরে উপস্থিত হয়ে সেই একই মেজাজে মঞ্চ মাতালেন অভিজিৎ। কথায় কথা উঠে এল তাঁর স্ট্রাগল থেকে পেশাদার জীবনের অনেক অজানা গল্প। অনেকেরই অজানা, অভিজিতের কেরিয়ারের শুরু হয়েছে আর ডি বর্মনের হাত ধরে।

 

Abhijeet Bhattacharya

এমনকী  কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে স্টেজ শোও করেছিলেন তিনি। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আর ডি বর্মণের সঙ্গে কাজের স্বপ্ন দেখা সাহসের ব্যাপার। গর্বের সঙ্গে বলছি, আমায় উনি ব্রেক দিয়েছিলেন। এটা পাওয়ার জন্য একটা জায়গা অবধি পৌঁছাতে হয়। আমি হয়তো সেই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই ছবিটা ফ্লপ হয়। আর ডি বর্মণের ভাল ও খারাপ দুটো সময়ের সাক্ষী থেকেছি আমি। এমন দিন দেখেছি যে, আর ডি বর্মণ তখন খ্যাতির মধ্যগগনে। আবার এমন অবস্থাও দেখেছি যে, আর ডি বর্মণের পাশে থাকা মানুষও তাঁর দিকে চেয়ে দেখতেন না।" 

তিনি আরও বলেন, "সনাতন ধর্মে মা, মেয়ে, বউ সবাই লক্ষ্মী। বিয়ের পর আমার জীবন পাল্টে যায়, আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আগে যে অভিজিৎকে কেউ চিনত না, সুযোগ পাচ্ছিলাম না, সেসময় বড় সুযোগ পেলাম আনন্দ- মিলিন্দ জুটির কাছে।" 

 

Abhijeet Bhattacharya

বাঙালি পরিবারের ছেলে হলেও, অভিজিতের জন্ম ও বেড়ে ওঠা উত্তরপ্রদেশে। অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন তিনি। গায়কের কথায়, "ভট্টাচার্য পরিবারে আমিই প্রথম ফাস্ট ক্লাস পেয়েছি। ইউপি বোর্ডে এরকম রেজাল্ট করা খুব কঠিন। বাঙালি পরিবারে জন্ম। মা- বাবা- গুরুজনের কথা আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ বরাবরা। তাঁদের কথায় গুরুত্ব দিতাম। আমি রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র। ইউপি-তে থেকেও আমি ওখানে আরতির গান গাইতাম। সরস্বতী পুজো করতাম।"  

Advertisement

ভারতীয় সংস্কৃতিতে ইংরাজী ভাষার প্রভাব ক্রমে বেড়েই চলেছে। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিজিৎ বলেন, "কী ভেবে কোনও পুরস্কার পেয়ে তারকারা ইংরাজিতে কথা বলে জানি না। দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রি বা বাঙালিরা তো বলে না। কোথাও না কোথাও গিয়ে সীমাবদ্ধতা জরুরি। আমার মা বলত আমরা বাঙালি। এদিকে আমি বলতাম আমরা হিন্দু। হিন্দুত্ব আমাদের ধর্ম। আমরা হিন্দুস্তানি। আমাদের দেশ হিন্দুস্তান। গুজরাটে বড় করে যেমন নবরাত্রি হয়, আমিও মুম্বইতে বড় করে দুর্গাপুজো করি। বিদেশে গেলে তাঁরা ইংরাজি জানলেও বলে না। আমাদের ইংরাজি সবার আগে ভুলে যেতে হবে। তাহলে গোটা দেশ হিন্দিতে কথা বলবে।"      

 

Abhijeet Bhattacharya

অভিজিৎ বলেন, শিল্পীদের মধ্যে খুব স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগীতা হয়। তাঁর কথায়, "যখন কোনও অ্যাওয়ার্ড শোতে আমি পুরস্কার পাই না, তখন মিথ্যে নাটক করি না। শুধু সেই শিল্পীকে গিয়ে সৌজন্যের জন্য শুভেচ্ছা জানাই। শিল্পীদের মধ্যে যে প্রতিযোগীতা সেটা হিংসা নয়, সেটা খুব স্বাস্থ্যকর।"  শিল্পী বলেন, তাঁর নিজের গাওয়া যে গান তাঁর প্রিয়, সেটা বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়নি। 

প্রসঙ্গত, শনি ও রবিবার দু'দিন কলকাতায় চলছে 'সাহিত্য আজতক-কলকাতা ২০২৪'। সাহিত্য থেকে রাজনীতি, আলোচনা, বিতর্কের সবচেয়ে বড় আসর, রীতিমতো সাড়া ফেলেছে তিলোত্তমায়। দু'দিন ধরে দুই মঞ্চে বাংলার সাহিত্য, কবিতা, গান নিয়ে বিস্তারিত চর্চা ও বিতর্ক সভা চলছে।  ইন্ডিয়া টুডে গোষ্ঠীর পরিচালিত দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নিউজ চ্যানেল 'আজতক', দেশের প্রতিটি বড় শহরেই সাহিত্য চর্চার এই মহামিলনের আসরের আয়োজন করে আসছে অনেক বছর ধরেই। এবারও ফের কলকাতায় আয়োজিত হয়েছে সাহিত্য -সংস্কৃতির এই মিলনক্ষেত্র।

 

POST A COMMENT
Advertisement