স্বরূপ গ্রেফতার হতেই মুখ খুললেন অনির্বাণঅনেক আগে থেকেই ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল। বারংবার তাঁর দুর্নীতির কথা প্রকাশ্যে চলে এলেও তৎকালীন তৃণমূল সরকারের হাত থাকায় তিনি বারবার বেঁচে যাচ্ছিলেন। বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি জুড়ে চলছিল এক অরাজকতা। স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে মতবিরোধ হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ব্যান ছিলেন অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। গত দুবছর ধরে স্বরূপ-অনির্বাণের ঠান্ডা লড়াই বাংলা ইন্ডাস্ট্রির মুখ পুড়িয়েছিল। রঘু ডাকাত-এর পর বড়পর্দায় আর দেখা যায়নি অনির্বাণকে। স্বরূপ এখন জেলবন্দি। আর প্রাক্তন সভাপতি গ্রেফতারের পর কী বলছেন ব্যানড অনির্বান?
সম্প্রতি শহরের এক অনুষ্ঠানে এসে অনির্বাণ বলেন, স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি তা নয়, আমরা তো এটা আগে থেকে জানতাম, আমরা জানি বলেই তো এটার বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম। অভিনেতা আরও বলেন, প্রতিদিনের যাঁরা কলাকুশলী, যাঁদের আমরা টেকনিশিয়ান বলি, যাঁরা উপার্জনের দিকে কিংবা গ্ল্যামারের দিক থেকে অনেকটা পিছনে— তাঁরা অনেক বেশি ভুগেছেন। এঁরা নানান সমস্যা, অসুবিধার মধ্যে থাকেন। ম। এগুলো আগে থেকে জানতাম বলেই বিরোধিতা করেছিলাম।
প্রসঙ্গত, বাংলা ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম দক্ষ অভিনেতা হলেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। অভিনেতার পাশাপাশি তিনি একজন পরিচালকও বটে। তাঁর অভিনয় বরাবর প্রশংসিত হয়েছে সমালোচকদের কাছে। কিন্তু হঠাৎ করেই গোটা চিত্রটা বদলে যায়। পরিচালক-প্রযোজকেরা যখন টলিপাড়ায় কর্মবিরতির ডাক দেন, সেই সময়ে প্রথমের সারিতে ছিলেন অনির্বাণ। শুধু তাই নয়, ফেডারেশনের সঙ্গে কিছু নীতির মতের অমিল হওয়ায় পরিচালক গিল্ডের সঙ্গে অনির্বাণও হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন। এরপরই টলিপাড়ায় ব্যানড হন অভিনেতা।
২০২৫ সালে ‘রঘু ডাকাত’ ছবির মুক্তির পরে সে ভাবে আর কিছু মুক্তি পায়নি তাঁর। নিজের ব্য়ান্ড ছাড়া আর কোনও কাজ করতে দেখা যায়নি তাঁকে। অনির্বাণের ব্যান সেই সময় দেব ছাড়া কেউই স্বরূপের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস দেখাতে পারেননি। চলতি বছরের শুরুতে অনির্বাণের হয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান দেব। তবুও মন গলেনি স্বরূপের। দেব সব সময় চেয়েছেন বাংলা ইন্ডাস্ট্রি থেকে এই ব্যান কালচার উঠে যাক। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছু হয়নি। গত দুবছরে অনির্বাণ সেভাবে কোনও কাজ পাননি।
অন্য পরিচালকেরা ক্ষমা চাইলেও, ফেডারেশনের সঙ্গে আপোষ করলেও অনির্বাণ সেই পথে হাঁটতে নারাজ ছিলেন। স্বরূপের বিরুদ্ধে নীরবে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তবে আবার অনির্বাণ স্বমহিমায় কাজে ফিরেছেন। দেব পরিচালিত দেশু ৭-এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে অনির্বাণকে। আর তারই মাঝে স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে স্বস্তির বাতাস উপহার দিল।