আর্টিস্ট ফোরামের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ভাস্বরের?বাংলায় পদ্মফুল ফুটতে না ফুটতেই বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির চিত্র একেবারে নিমেষে পরিবর্তন। এত বছর ধরে বিশ্বাস ব্রাদার্স-এর যে দাপট চলছিল, তা বঙ্গে বিজেপি আসতেই একেবারে গোড়া থেকে নির্মূল করে দেয়। সম্প্রতি এক মেকআপ শিল্পীর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। আর তিনি গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই এক এক করে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা স্বরূপ জমানার অরাজনৈতিক কাজকর্ম নিয়ে সরব হচ্ছেন। আর এই আবহে এবার আর্টিস্ট ফোরামের দিকে আঙুল তুললেন অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যয়।
ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো বোমা ফাটালেন। অভিনেতা জানিয়েছেন কোন সমস্যা নিয়ে কেউ যদি আর্টিস্ট ফোরামে মেইল করতেন, তাহলে সেই মেইল নাকি গায়েব হয়ে যেত। এই সংগঠনের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা। ভাস্বর তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পেজে জানিয়েছেন যে তিনি এরকম এক তথ্য পেয়েছেন। আর যেটা দেখে স্তম্ভিত অভিনেতা। ভাস্বর লিখেছেন, ‘একটা বিস্ময়কর তথ্য পেলাম। তিন চার বছর আগে একটা কাজের টাকা পাওয়া নিয়ে ঝামেলা হচ্ছিল বলে আর্টিস্ট ফোরামকে মেল করেছিলাম। কিন্তু, কেউ কোনও উত্তর দেননি। অনেকদিন অপেক্ষা করে তারপর নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে টাকা আদায় করি।’
বিষয়টি নিয়ে তিনি বর্তমান ফোরামকে জানাতেই যা শোনেন, তা শুনে বেশ হতবাক হয়ে গিয়েছেন অভিনেতা। কিন্তু আর্টিস্ট ফোরামেও যে এই ধরনের কর্মকাণ্ড হয়, তা ভাবতেই পারছেন না ভাস্বর। তৎকালীন আর্টিস্ট ফোরাম নিয়ে প্রকাশ্যে কোন সত্য? অভিনেতা তাঁর পোস্টে জানান, ‘বর্তমান ফোরামের নতুন কমিটির একজনকে বললাম। তিনি জানালেন পুরোনো কমিটি যখন ছিল তখন আর্টিস্টদের মেল দু-একজনকে ফরওয়ার্ড করা হত। তাঁদের মধ্যে একজন এই মেলগুলো পাত্তা দিতেন না, নাহলে হাপিস করে দিতেন। রেজাল্ট বেরনোর পর ফোরাম ভেঙে দেওয়ার কথা যিনি বলেছিলেন ওই কাজগুলো উনিই করতেন। শুধু আমার নয়, শুনলাম স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের মেলও এভাবে হারিয়ে গিয়েছে। তবে বর্তমান কমিটি অনেক শক্তিশালী। এসব অরাজকতা আর হতে দেবে না।’
ভাস্বরের এই পোস্ট যে একেবারে সত্যি তার প্রমাণ মিলল তাঁর কমেন্ট বক্সেই। অনেকে অভিনেতার এই পোস্টকে সমর্থন জানিয়ে কমেন্ট করেছেন। প্রসঙ্গত, আর্টিস্টস ফোরামের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নতুন সরকারের আগমনের পর। টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী জানিয়েছেন সম্প্রতি যে ফেডারেশন বলে কিছু থাকবে না, পরিবর্তে তৈরি হবে কনফেডারেশন। অস্তিত্ব থাকবে না ২৬টি গিল্ডের। কেন্দ্র থেকে কনফেডারেশনই নিয়ন্ত্রণ করবে টালিগঞ্জের বিনোদন জগৎ। আর টালিগঞ্জের বিধায়কের কথায় অস্বস্তি বাড়ছে রঞ্জিৎ মল্লিক-প্রসেনজিৎ পরিচালিত ফোরামের অন্দরে।