কাঞ্চন মল্লিকহঠাৎ করে চিত্রটা এভাবে বদলে যাবে তা অনেকেই ভাবেননি। পরিবর্তন নয়, প্রত্যাবর্তনের দিকেই সায় দিয়েছেন বঙ্গবাসী। আর তাই বাংলা জুড়ে শুধুই এখন গেরুয়া ঝড়। ছাব্বিশের নির্বাচনে উত্তরপাড়া থেকে টিকিট পাননি বিদায়ী বিধায়ক তথা অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক। দল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কাজে অখুশি ছিলেন। সেই কারণে উত্তরপাড়া থেকে দাঁড় করানো হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলেকে। তবে বিজেপি জিততেই কাঞ্চনের কাছ থেকে এল শুভেচ্ছা বার্তা।
মঙ্গলবার কাঞ্চন নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রথম পোস্ট করলেন। তিনি লেখেন, ‘আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা যারা নতুন সরকার গড়তে চলেছেন।এটা মানুষের রায়। হয়তো মানুষের অনেক অভিযোগ, অনুযোগ, না পাওয়া, হতাশা থেকে মানুষ এই পরিবর্তন এনেছে। আমি আশা রাখবো নতুন সরকার মানুষের পাশে থেকে কাজে থেকে সাধারণ মানুষের সমস্ত আশা পূরণ করবে। শুধু এটুকুই চাইবো একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে পরিবর্তন হোক শান্তির পথ ধরে হিংসার পথ ধরে নয়।’
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপাড়া থেকে টিকিট পেয়ে বিধায়ক পদে জয়ী হয়েছিলেন কাঞ্চন। কিন্তু তারপর তাঁর জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। তৃতীয়বারের জন্য বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন তিনি। একাধিক ট্রোল-কটাক্ষের মুখেও পড়তে হয়েছিল কাঞ্চনকে। এক সময় দেখা গিয়েছিল তৃণমূলের শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে প্রচারের সময় গাড়ি থেকে নামিয়ে দিচ্ছেন। তবে পড়ে অবশ্য তৃণমূলের আর এক সাংসদ তথা অভিনেতা দেবের হয়ে তাঁকে প্রচারে দেখা যায়। পরবর্তীকালে একাধিক বিতর্কেও জড়ান কাঞ্চন। এমনকী তাঁর কেন্দ্র উত্তরপাড়াও তাঁর কাজে সন্তুষ্ট ছিল না। তাই এবারের নির্বাচনে তাঁকে টিকিট দেওয়া হয় না।
কাঞ্চনের এই পোস্টে অনেকে যেমন তাঁকে সমর্থন করেছে তেমনি অনেকে তাঁকে ট্রোল করতেও ছাড়েনি। কেউ লেখেন, কবে জয়েন করছেন? আবার কেউ লিখলেন, আপনার থেকে নীতি জ্ঞান কেউ শুনতে চেয়েছে কি? তুই তোর মত রাখ। আবার কেউ লিখেছেন, কিন্তু TMC-র কাউকে বিজেপিতে নেবে না বলছে। টিকিট না পাওয়ার পর থেকে কাঞ্চনতে রাজনীতির মঞ্চে আর দেখা যায়নি। এখন নিজের অভিনয় ও সংসার নিয়েই ভীষণ ব্যস্ত বিদায়ী বিধায়ক ও অভিনেতা।