মিঠু-রঞ্জিত মল্লিকবাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ডাকসাইটে সুন্দরী অভিনেত্রী বললেও অত্যুক্তি হবে না, সেই মিঠু মুখোপাধ্যায় প্রয়াত। মাত্র ৭১ বছর বয়সে ক্যান্সারে ভুগে মারা গেলেন অভিনেত্রী। মুম্বইয়ের ব্রিচক্যান্ডি হাসপাতালে রবিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নায়িকা। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া টলিউড জগতে। অভিনেত্রীর মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর সহ-অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক।
'মৌচাক', 'স্বয়ংসিদ্ধা' ও 'ভাগ্যচক্র' ছবিতে রঞ্জিত মল্লিক ও মিঠু মুখোপাধ্যায় একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। কান্নাভেজা গলায় রঞ্জিত মল্লিক বলেন, এটা খুবই শকিং খবর। এটা মন থেকে মেনে নেওয়া খুব শক্ত হচ্ছে, কারণ আমাদের থেকে বয়সে অনেক ছোট। এরকম একটা খবর আমার কাছে আসবে, ভাবতেই পারেনি। বর্ষীয়ান অভিনেতা বলেন, এতদিন একসঙ্গে কাজ করেছি। প্রথমে যখন শুনলাম তখন সেটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। ভেবেছিলাম হয়ত এটা ভুল খবর। তারপর বেশ কিছু জায়গায় দেখে বিশ্বাস হল এটা ঠিক খবর।
মিঠু মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে রঞ্জিত মল্লিক বলেন, একসঙ্গে কাজ করেছি, অসাধারণ অভিনেত্রী। স্বয়ংসিদ্ধাতে যা অভিনয় করেছিল, তা ভোলবার নয়। সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়, ছায়া দেবীর সঙ্গে নিজের সমানভাবে ব্যক্তিত্ব বজায় রেখে কাজ। উত্তমদার সঙ্গে কাজ করেছে মৌচাকে খুব ভাল। সেই দিনগুলোর কথা ভীষণভাবে মনে পড়ছে। ওর আত্মার শান্তি কামনা করা ছাড়া আর কিছুই বলার ভাষা নেই আমার। যেখানেই থাকুক, ও যেন শান্তিতে থাকে।
১৯৭৪ সালে অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের কালজয়ী ছবি ‘মৌচাক’-এ সিতেশ ও নীপার রসায়ন আজও যেকোনও চলচ্চিত্রপ্রেমীর হৃদয়ে অমলিন। পর্দায় সেই চঞ্চল নীপা চরিত্রটিকে যেভাবে জীবন্ত করে তুলেছিলেন মিঠু, তা টলিউডের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায়। এর পর ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ ছবিতে ফের রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে তাঁর জুটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম মাইলফলক হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে উত্তম কুমারের মতো মহানায়কের পাশাপাশি সত্য বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা ছায়াদেবীর মতো দিকপাল শিল্পীদের সমকক্ষ হয়ে তিনি স্ক্রিন ভাগ করে নিয়েছেন। শুধু বাংলাতেই নয়, হিন্দি থেকে ওড়িয়া চলচ্চিত্রেও নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছিলেন এই অভিনেত্রী। সাফল্যের মধ্যগগনে থাকতেই পর্দা থেকে উধাও হয়ে যাওয়া এই অভিনেত্রী, শেষপর্যন্ত চলেও গেলেন লাইমলাইটের আড়ালে থেকেই। সোমবার সকালে এই দুঃসংবাদ সামনে আসতেই শোকের ছায়া নেমে আসে বিনোদন জগতে।