যশ ও নুসরতপ্রতি বছরই দশমীতে মাকে বরণ ও সিঁদুর খেলতে দেখা যায় নুসরত জাহানকে। এই নিয়ে তাঁকে কম ট্রোলের মুখে পড়তে হয়নি। বিশেষ করে তাঁর ধর্মকে টেনে একাধিক কটাক্ষ করা হয়। যদিও অভিনেত্রী এইসব ট্রোল-কটাক্ষকে একেবারেই পাত্তা দিতে নারাজ। তিনি নিজের মতো করে জীবন কাটাতেই ভালোবাসেন। এই বছরের দশমীতেও লাল পাড় সাদা শাড়ি, একমাথা সিঁদুর ও হাতে শাঁখা-পলা পরে ঠাকুর বরণ করতে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। তারপর সিঁদুরও খেলেন তিনি। আর স্বাভাবিকভাবে এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট হতেই কটাক্ষের বন্যা নুসরতকে নিয়ে। বিশেষত তিনি মুসলিম হয়ে সিঁথিতে সিঁদুর পরেছেন, সেটা নিয়েই বেশি আপত্তি এক বিশেষ সম্প্রদায়ের নেটিজেনদের। এবার এই নিয়ে খোলাখুলি কথা বললেন নুসরত।
সম্প্রতি পাইক বাড়িতে মাকে বরণ ও সিঁদুর খেলতে এসেছিলেন নুসরত। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। নুসরত প্রথমেই বলেন যে এটা তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ। অভিনেত্রীর কথায়, আমিও আমার কমেন্টে দেখেছি অনেকে অনেক কিছু লিখছে, যাঁরা মনে হয় নিজের ধর্মের বিষয়ে সবকিছুটা জানে। কিন্তু হয়তো তাদের চেয়ে একটু বেশি আমি জানি। সেটা আমার আত্মবিশ্বাস। আপনার বিশ্বাস আপনার কাছে রাখুন। আপনিও ভালো থাকুন, আমিও নিজেকে ভালো রাখছি। নুসরত এও বলেন, ‘উৎসব সকলের হয়। আর আমি চিরকাল সকল উৎসব পালন করে আসছি। অনেকেই বলে তুমি তো জাহান। আমি কোনোদিন কাওকে জবাব দেইনি। আমার মনে হয় যারা অন্য ধর্মের হয়েও, বিশ্বাসের সঙ্গে মায়ের আরাধনা করছে, সিঁদুর খেলায় মেতে উঠছে, তাঁদেরও উচিত নয় জবাব দেওয়া। কারণ এটা ব্যক্তিগত পছন্দ।
প্রসঙ্গত, এর আগেও নুসরত হিন্দু ধর্মের সব উৎসব অত্যন্ত নিষ্ঠা সহকারে পালন করে এসেছেন। শুধু দুর্গাপুজো নয়, জগন্নাথপুজো থেকে দিওয়ালি, বড়দিন, সমস্তটাই ধুমধাম করে পালন করেন নুসরত। পুজোর আগে আগেই যশের সঙ্গে উজ্জ্বয়িনির মহাকালেশ্বর মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে এসেছেন। আর সেই নিয়েও তাঁকে ট্রোলের মুখে পড়তে হয়। তবে এইসব নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতে চান না অভিনেত্রী। তিনি বরাবরই সব ধর্মকে মান নজরে দেখে এসেছেন।
একটা সময়ে হিন্দু রীতি মেনেই সামাজিক বিয়ে করেছিলেন নুসরত তুরস্কে গিয়ে কলকাতারই ব্যবসায়ী নিখিল জৈনকে। এরপর বিয়ে সেরে একেবারে শাঁখা-পলা আর সিঁদুর পরে দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন সাংসদ হিসেবে শপথ নিতে। যা নিয়ে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়। প্রত্যেক বছরই যশের সঙ্গে নুসরতকে সিঁদুর খেলতে দেখান যায়। এই বছরও ব্যতিক্রম ছিল না। নুসরত নিজের মতো করেই সব ধর্মের উৎসব পালন করেন।