যশ-নুসরতবরাবরই সব ধর্মকে সমান চোখে দেখে এসেছেন অভিনেত্রী নুসরাত জাহান। তাঁর বাড়িতে যেমন ইদ-রোজা পালন হয়, তেমনি জন্মাষ্টমী, গণেশ পুজোও নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে উদযাপন করা হয়। প্রতি বছরই দুর্গাপুজোয় অঞ্জলি দেওয়া থেকে দশমীর সিঁদুর খেলাতে মাততে দেখা যায় নুসরতকে। এর জন্য তাঁকে তাঁর ধর্ম টেনে এনে কটাক্ষও করা হয়। এবারেও তার ব্যতিক্রম হল না। দুর্গাপুজো উদযাপন করছেন দেখে নুসরতের দিকে ধেয়ে এল কটাক্ষ।
ষষ্ঠীর দিন যশের সঙ্গে শহরের কিছু পুজোর বিচারক হিসাবে গিয়েছিলেন নুসরত। পরেছিলেন হালকা গোলাপি রঙের শাড়ি ও কনট্রাস্ট ব্লাউজ। সঙ্গে মানানসই মেকআপ ও গয়না। যশ পরেছিলেন সাদা রঙের পাঞ্জাবি। এক মণ্ডপে গিয়ে নুসরত ও যশকে দেখা গেল জমিয়ে ঢাক বাজাতে আবার কোথাও দেখা গেল নুসরতকে ঢাকের তালে নাচতে। পুজোটা এভাবেই উপভোগ করেন নুসরত। আর সেই ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেই ট্রোলের শিকার হলেন অভিনেত্রী। তাঁর ধর্মকে টেনে একের পর এক কটাক্ষ করা হল নায়িকাকে।
কেউ লিখলেন, নুসরত না না মুসলিম? তাহলে এইসব করে ও, যাক ভাল অনেক উন্নতি হয়েছে। আবার কেউ লিখেছেন, ইহকালে সুখ নিতে গিয়ে পরকালের সুখ হারাবে, তখন বুঝবে ইসনৃলাম জিনিসটা কী। আবার কারোর কারোর মতে, নুসরত নামটা বদলে নিলেই পারেন। কেউ লিখেছেন, মুসলিম জাতির কলঙ্ক। যদিও নুসরত কোনওদিনই এইসব মন্তব্যের কোনও পাল্টা জবাব দেননি। তিনি নিজের মতো করে উৎসবকে উদযাপন করাতেই বিশ্বাসী।
এর আগেও দশমীতে সিঁদুর খেলে কিংবা শাঁখা-পলা, সিঁথিতে সিঁদুর পরে বারংবার ট্রোলের মুখে পড়েছেন নুসত জাহান। যদিও তিনি একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে তিনি সব উৎসব-পার্বণকেই নিজের মতো উপভোগ করতেই বেশি ভালোবাসেন। দুর্গা ষষ্ঠীর সকালে বিচারক হয়ে বেরিয়ে বেশ কয়েকটি ঠাকুর দেখলেন যশ-নুসরত। ধর্মে মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও দুর্গাপুজোয় যোগ দেওয়া বা কালী মন্দিরে পুজো দেওয়া- কোনও কিছু থেকে পিছিয়ে আসেননি নুসরত জাহান। অবশ্য এরজন্য তাঁকে একাধিকবার খুনের হুমকি সহ নোংরা মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে অভিনেত্রীর কাছে সব ধর্মই সমান, তা স্পষ্ট করেছেন বহুবার।