scorecardresearch
 

পল্লবী-মৃত্যু রহস্য: ফ্ল্যাট-গাড়ি কিনতে সাগ্নিককে টাকা? সামনে আরও তথ্য

মাত্র ২৫ বছর বয়েস। তাতেই থেমে গেল জীবন। বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রীর রহস্যমৃত্যু নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে ধোঁয়াশা। সামনে আসছে নতুন নতুন সব তথ্য। আর তাতে সন্দেহের তিরটা যাচ্ছে পল্লবীর প্রেমিক সাগ্নিক চক্রবর্তীর দিকেই।

সাগ্নিক আগে থেকেই ছিল বিবাহিত! সাগ্নিক আগে থেকেই ছিল বিবাহিত!
হাইলাইটস
  • সময় যত এগোচ্ছে ততই সামনে আসছে আরও নতুন নতুন অভিযোগ
  • এবার জানা গেল প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার জয়েন্ট ফিক্সড ডিপোজিট ছিল সাগ্নিক ও পল্লবীর

মাত্র ২৫ বছর বয়েস। তাতেই থেমে গেল জীবন। বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রীর রহস্যমৃত্যু নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে ধোঁয়াশা। সামনে আসছে নতুন নতুন সব তথ্য। আর তাতে সন্দেহের তিরটা যাচ্ছে পল্লবীর প্রেমিক সাগ্নিক চক্রবর্তীর দিকেই। রবিবার পল্লবীর মৃত্যুর খবর সামনে আসার পরেই তাঁর পবিবার সাগ্নিকের দিকেই অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছিল। সময় যত এগোচ্ছে ততই সামনে আসছে আরও নতুন নতুন অভিযোগ। এবার জানা গেল প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার জয়েন্ট ফিক্সড ডিপোজিট ছিল সাগ্নিক ও পল্লবীর।

 

 

সাগ্নিক আগে থেকেই ছিল বিবাহিত
অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ মহল এবং সহ-অভিনেতাদের তরফে ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগেই হাওড়া থেকে গড়ফাতে একটি ফ্ল্যাটে প্রেমিক সাগ্নিক চক্রবর্তীর সঙ্গে থাকতে শুরু করেন তাঁরা। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল তাঁদের। ফ্ল্যাটে নিজেদের স্বামী-স্ত্রী বলেই পরিচয় দিয়েছিলেন দু'জনে। কিন্তু এই সম্পর্কের কারণে যে পল্লবী ভাল ছিলেন না, তা একাধিকবার সহকর্মী এবং বন্ধুদের জানিয়েছিলেন তিনি। সাগ্নিকের সঙ্গে প্রায়শই ঝামেলা এবং কথা কাটাকাটি চলত তাঁর। শনিবার ও রবিবার সকালেও প্রেমিকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় পল্লবীর। তাঁর রহস্য মৃত্যুর নেপথ্যে কি সম্পর্কের এই টানাপোড়েন? তাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই সাগ্নিকের ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। পল্লবীর বাবার নীলু দের দাবি, মেয়ের প্রেমিক সাগ্নিক আগে থেকেই বিবাহিত। রেজিস্ট্রি করে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। কিন্তু আইনি বিচ্ছেদের পথে না হেঁটেই তাঁর মেয়ের সঙ্গে একত্রবাস করছিলেন সাগ্নিক। 

পল্লবীর বান্ধবীকেও বাড়িতে আনতেন সাগ্নিক
পল্লবীর পার্টনার সাগ্নিকের চরিত্র নিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। পল্লবীর বাবার নীলু দের আরও দাবি, পল্লবীর সঙ্গে থাকাকালীনই তাঁরই এক বান্ধবীর সঙ্গেও সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন সাগ্নিক। পল্লবীর অনুপস্থিতিতে নাকি তাঁদের ফ্যাটেও আসা-যাওয়া ছিল সেই মেয়েটির। আর এই নিয়ে তাঁদের মধ্যে ঝগড়াও হত অনেক। এমনকী, অভিনেত্রীর বাবার দাবি বউ থাকা সত্বেও পল্লবীকে নিয়ে লিভ ইন করার ব্যাপারটা পুরোটাই জানত সাগ্নিকের মা।

 

 

'প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার জয়েন্ট ফিক্সড ডিপোজিট
প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার জয়েন্ট ফিক্সড ডিপোজিট ছিল পল্লবী ও সাগ্নিকের। পল্লবীর একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নমিনিও সাগ্নিক। এমনটাই দাবি করছে দে পরিবার।  এখানেই শেষ নয়, সাগ্নিক ও তাঁর বাবার নামে ৮০ লক্ষ টাকার ফ্ল্যাট কেনা হয় নিউটাউনে। দামি গাড়িও কেনেন সাগ্নিক। ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনায় বড় অঙ্কের টাকা দিয়েছিলেন পল্লবী। এদিকে জানা যাচ্ছে সম্প্রতি আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন পল্লবী। সেই সঙ্গে সাগ্নিকের সঙ্গে অশান্তিও চরমে উঠত অভিনেত্রীর। পল্লবীকে সাগ্নিক মারধর করত বলেই দাবি। এমনকী, অভিনেত্রীর গায়ে মারধরের চিহ্নও নাকি দেখেছেন সহকর্মীরা। অনেকেই দাবি করছেন এই ভালোবাসার সম্পর্ক আসলে ছিল ‘বিষাক্ত’। তাই এত অল্প বয়সেই প্রাণ হারাতে হয় পল্লবীকে।

 

 

সাগ্নিক চক্রবর্তী কী করেন?
আপাতত সাগ্নিককে আটক করেছে গড়ফা থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট আত্মহত্যার থিওরিই খাঁড়া করেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তরফে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন পুলিশ আধিকারিকরা। পল্লবী অভিনেত্রী হলেও সাগ্নিক আগাগোড়াই ইন্ডাস্ট্রির বাইরে। তিনি কী করতেন, তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে তাঁর বাবা সুভাষ চক্রবর্তী জানান, ‘অনলাইন’-এ কাজ করেন ছেলে। সাগ্নিকের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলটি ‘প্রাইভেট’ করা। অর্থাৎ তাঁর অনুমতি ছাড়া সেই প্রোফাইলের ছবি ভিডিয়ো দেখা যাবে না। ইনস্টাগ্রামের ‘বায়ো’-তে তাঁর ফেসবুক লিঙ্কটি রয়েছে বটে। কিন্তু সেই সূত্র ধরে তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মনে করা হচ্ছে, বিতর্ক এড়ানোর জন্য এই মুহূর্তে অ্যাকাউন্টটিকে ‘ডিলিট’ অথবা ‘ডিঅ্যাক্টিভেট’ করে দিয়েছেন তিনি। তবে সাগ্নিক যে আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল, তা বলে দেয় তাঁর সাজপোশাক এবং বহুমূল্য ফোন।