Mithu Mukherjee: 'ক'দিনের জন্য বম্বে যাচ্ছি,' ১৯৯০ সালে মিঠুর সঙ্গে সেই শেষ কথা, তারপর?

'আশ্রিতা' ছবির পরই তিনি মুম্বই পাড়ি দেন, আর তারপরই একেবারে গুম হয়ে যান বাংলা ইন্ডাস্ট্রির এই নায়িকা। সোমবার মিঠু মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ বিনোদন জগত। মারণরোগ ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

Advertisement
'ক'দিনের জন্য বম্বে যাচ্ছি,' ১৯৯০ সালে মিঠুর সঙ্গে সেই শেষ কথা, তারপর?মিঠু মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে কী বললেন রত্না ঘোষাল?
হাইলাইটস
  • সাতের দশকে একের পর এক হিট ছবি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন নায়িকা।

ডাগর ডাগর চোখ, গালে তিল আর অসম্ভব সুন্দর অভিনয়, বাংলা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় নায়িকা ছিলেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। সাতের দশকে একের পর এক হিট ছবি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন নায়িকা। তাঁর অভিনয়, সৌন্দর্য নিয়ে আজও চর্চা হয় টলিপাড়ায়। কিন্তু কেরিয়ারের একদম পিক সময়েই হঠাৎ করে অন্তরালে চলে যান মিঠু। 'আশ্রিতা' ছবির পরই তিনি মুম্বই পাড়ি দেন, আর তারপরই একেবারে গুম হয়ে যান বাংলা ইন্ডাস্ট্রির এই নায়িকা। সোমবার মিঠু মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ বিনোদন জগত। মারণরোগ ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বহু বছর ধরে গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। খুব কাছের বন্ধু রত্না ঘোষাল বারবার মিঠুর সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনও হদিশ পাননি। মিঠুর মৃত্যুর পর bangla.aajtak.in-কে অভিনেত্রীর অন্তরালে যাওয়া নিয়ে কথা বললেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল। 

বাংলা আজতককে রত্না ঘোষাল প্রথমেই বলেন, 'আমি ভাবতে পারিনি এই খবরটা পাব, মিঠু নেই। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে বিনোদন জগৎ থেকে একেবারে গুটিয়ে নিয়েছিলেন সাতের দশকের এই ডাকসাইটে সুন্দরী নায়িকা। কিন্তু কেন? এ প্রসঙ্গে রত্না ঘোষাল বলেন, 'জানি না, সত্যি জানি না এটা। জানলে হয়ত ভীষণ ভাল হত। মিঠু ভীষণ কাজ ভালোবাসতো, কাজ পাগল ছিল। শেষ ছবিটা (আশ্রিতা) যেটা করেছি, ওর প্রযোজনায়, সেই ছবির ডাবিং করার পরও বলে গেল আমি ক'দিনের জন্য বম্বেতে যাচ্ছি, আবার ফিরে আসব, ফিরে এসে পরবর্তী ছবির কাজ শুরু করব। সেই ছবিতেও আমার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র থাকবে বলেও কথাবার্তা হল, আমি বললাম তুই আগে স্ক্রিপ্ট রেডি কর তারপর।' অভিনেত্রী বলেন, 'এটা বলে চলে গেল, বলল ফোন করব। তারপর আর কোনও ফোন নেই, একমাস-দুমাস ফোন না করাতে আমার কাছে যে নম্বর ছিল আমি তাতে ফোন করলাম, সেই ফোন কেউ ধরে না। দুবার তিনবার ফোন করেছি, কেউ ধরে না, আবার দু-তিনদিন পরে ফোন করি, কিন্তু তা আর কেউ ধরে না। বুঝতে পারছিলাম না মিঠু কোথায় গেল। এরপর যাকেই জিজ্ঞাসা করেছি যে তোমরা জানো মিঠু কোথায়, সবাই বলে বম্বেতে আছে, কিন্তু কোথায় আছে, কী করছে কেউ বলতে পারে না। কেউ জানতে পারে না মিঠুর খবর।'

Advertisement

ছবি সৌজন্যে: সংগৃহীত

রত্না ঘোষালের মনে এখনও এই একটা প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে, কেন মিঠু মুখোপাধ্যায় নিজেকে গুটিয়ে নিলেন? রত্না ঘোষালের কথা, 'মিঠুর মধ্যে কাজ নিয়ে ভীষণ উৎসাহ ছিল, কিন্তু ও কেন এরকম করল তা এখনও বুঝতে পারছি না।' বাংলা ইন্ডাস্ট্রির প্রতি কোনও অভিমান থেকেই কি এই সিদ্ধান্ত? বর্ষীয়ান অভিনেত্রী বলেন, 'বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে মিঠু ভাল ভাল কাজ করেছে, কেন এই ইন্ডাস্ট্রির প্রতি রাগ-অভিমান হবে? শেষ ছবি 'আশ্রিতা'ও তো হিট করল, তাই বাংলা ইন্ডাস্ট্রির প্রতি কোনও রাগ থাকার কথা তো নয়। মিঠু সেরকম মেয়ে ছিল না, খুব মন খোলা মেয়ে ছিল।' 

এমনকী অভিনেত্রী যে দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছিলেন, সেই খবরও জানতেন না রত্না ঘোষাল। একসঙ্গে ‘মৌচাক’, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ ও ‘আশ্রিতা’-র মতো স্মরণীয় চলচ্চিত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, 'মিঠু খুব ভাল মেয়ে ছিল, সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে পছন্দ করত, শ্যুটিংয়ে ব্রেকের সময় এত খাবার নিয়ে আসত সবার জন্য, খুবই প্রাণবন্ত ছিল মিঠু। সে কেন এরকমভাবে অন্তরালে চলে গেল, তা আজও বুঝতে পারছি না।'

ছবি সৌজন্যে: সংগৃহীত

মিঠু ও রত্না ঘোষালের সম্পর্ক খুব ভাল ছিল। বহু বছর আগে কালীপুজোর সময়েও মিঠুর বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। একে-অপরের বাড়িতে যাতায়াতও ছিল। মিঠুর পরিবারের সঙ্গেও রত্না ঘোষালের ভাল সম্পর্ক ছিল। রত্না ঘোষাল জানান যে কলকাতায় আগে গরানহাটায় থাকতেন। পরে সার্দান অ্যাভিনিউ অশোকায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। তবে দুটো ফ্ল্যাটই বিক্রি করে দিয়েছিলেন মিঠু। এরপরই তিনি মুম্বইতে গিয়ে একেবারে অন্তরালে চলে যান। এটা স্বেচ্ছায় অন্তরাল নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা আজও অজানা।   

POST A COMMENT
Advertisement