Tota Roy Choudhury: 'ক্ষমা করে দিও ক্যাপ্টেন', হঠাৎ সৃজিতের কাছে কেন ক্ষমা চাইলেন টোটা?

Tota Roy Choudhury: পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরেই ফেলুদা হওয়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরীর। এরপর গত পাঁচ বছর ধরে সৃজিতের ফেলুদা ছিলেন টোটা। কিন্তু এবার ফেলুদার হাত ছাড়লেন সৃজিত। 'ফেলুদার গোয়েন্দগিরি: ভূস্বর্গ ভয়ঙ্কর' মুক্তির পরই সৃজিত ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি আর ফেলুদা সিরিজ বানাবেন না।

Advertisement
'ক্ষমা করে দিও ক্যাপ্টেন', হঠাৎ সৃজিতের কাছে কেন ক্ষমা চাইলেন টোটা?সৃজিতের কাছে ক্ষমা চাইলেন টোটা
হাইলাইটস
  • পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরেই ফেলুদা হওয়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরীর।

পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরেই ফেলুদা হওয়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরীর। এরপর গত পাঁচ বছর ধরে সৃজিতের ফেলুদা ছিলেন টোটা। কিন্তু এবার ফেলুদার হাত ছাড়লেন সৃজিত। 'ফেলুদার গোয়েন্দগিরি: ভূস্বর্গ ভয়ঙ্কর' মুক্তির পরই সৃজিত ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি আর ফেলুদা সিরিজ বানাবেন না। তবে হইচই প্ল্যাটফর্মে ফেলুদা সিরিজ থামছে না। পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় টোটা রায়চৌধুরিকে নিয়ে তৈরি করবেন রয়েল বেঙ্গল রহস্য। কিন্তু এরই মাঝে ফেলুদা তথা টোটা আবেগপ্রবণ চিঠি লিখলেন সৃজিতের উদ্দেশ্যে। ক্ষমা চাইলেন ক্যাপ্টেন সৃজিতের কাছেও। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় টোটা দুটি ছবি শেয়ার করেছেন। প্রথম যেবার টোটা ফেলুদা হলেন, সেইসময় তোলা ক্যামেরার নেপথ্যফ্রেম আর দ্বিতীয়টি কাশ্মীরে ভূস্বর্গ ভয়ঙ্কর শ্যুটের সময় তোলা। একফ্রেমে ফেলুদা, জটায়ু এবং তোপসে। দুটি ছবি শেয়ার করে স্মৃতিচারণায় অভিনেতা। এই দুটো ছবি শেয়ার করে টোটা তাঁর পরিচালক সৃজিতকে নিয়ে আবেগে ভেসেছেন। অভিনেতা লিখেছেন, 'ওপরের ছবিটি ২৪শে ডিসেম্বর, ২০১৯-এ তোলা। আপাতদৃষ্টিতে চেহারায় আলগা নিশ্চিন্ততা পরিস্ফুট হলেও পেটে প্রজাপতির অবিরাম ওড়াওড়ি। স্বপ্নের চরিত্রে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই কয়েক রাউন্ড তুমুল গালমন্দের সম্মুখীন হয়ে ‘ফেলুদা’র সেটে আমার প্রথম দিন। তার ওপর দুই সুউচ্চ পর্বতপ্রমাণ প্রবাদপ্রতিমদের সঙ্গে তুলনা হওয়ার ভয় পরিচালকের বরাভয়েও কাটছে না। ফেলুদা হওয়ার প্রচেষ্টার প্রথম পদক্ষেপ, এখনও অবশ্য হয়ে উঠতে পারিনি তবে চেষ্টায় রয়েছি। এবং ত্রয়ীর পথচলার হাঁটি হাঁটি পা পা। নিচের ছবিটি ২৫শে মার্চ, ২০২৪-এ তোলা। ততদিনে দুটো আলাদা প্ল্যাটফর্মে দুটো সিজন স্ট্রিম হয়ে গিয়েছে। বহুল সংখ্যক দর্শক এই ত্রয়ীকে গ্রহণ করেছেন এবং বেশ কিছু মানুষ নিজগুণে আপন করেও নিয়েছেন তাঁদের কৃতজ্ঞতা ও ভালবাসা। এক শ্রেণীর গালাগাল অবশ্য এখনও পিছু ছাড়েনি তবে চামড়া এখন কাজিরাঙ্গার রাইনো! স্বর্গীয় পরিবেশে ফেলুদা বেশে ভূস্বর্গে সে মুহূর্তে আবহ ‘আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে’! তখনও জানি না যে এটাই ‘ক্যাপ্টেন’-এর নেতৃত্বে আমাদের শেষ ইনিংস।'

Advertisement

এরপর টোটা তাঁর খোলা চিঠিতে সৃজিতের প্রশংসা করতে ভোলেননি। অভিনেতার কথায়, সৃজিতের ফেলুদাপ্রীতি, সত্যজিৎ-ভক্তি ও পরিচালনার মেধা, মুন্সিয়ানাকে কৃতিত্ব না দিলে তা নিন্দুকদের চোখে একচোখামি হবে। সৃজিতের হাত ছেড়ে এবার কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফেলুদার নতুন সফর শুরু করতে চলেছেন টোটা, অনির্বাণ ও কল্পন মিত্রকে নিয়ে। সৃজিতের বাছাই করা অভিনেতাদের বদল করবেন না কমলেশ্বর। টোটা লিখেছেন, 'এবার ত্রয়ী পথ চলবে আরেক শক্তিশালী পরিচালকের হাত ধরে। কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের গভীরতা, নিষ্ঠা ও দক্ষতা সর্বজনবিদিত। আশা করি এবারও আপনাদের আশীর্বাদ ও ভালোবাসা প্রাপ্তি হবে। তবে বলতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই যে, সৃজিত মুখোপাধ্যায় যদি স্রোতের বিপরীতে সন্তরণ করে আমার উপর বিশ্বাস না রাখত এবং পরবর্তীতে মাতৃসম স্নেহে আমায় ফেলুদার চরিত্রে গড়ে না তুলত, তাহলে আজ আমার একমাত্র স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে যেত। আর হ্যাঁ, ফেলুদারূপে সমস্ত ত্রুটি বিচ্যুতি, দোষ, খামতি একান্তই আমার অক্ষমতা প্রসূত। পরিচালকের ধৈর্য, নিষ্ঠা ও সক্ষমতা সত্ত্বেও। ক্ষমা করে দিও ক্যাপ্টেন। আর আশা করি জীবনপথের কোনও বাঁকে আবার দেখা হয়ে যাবে। তোমার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা আজীবনের। ভালো থেকো। ভালবাসা নিও।' টোটার এই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন সৃজিতও। 

প্রসঙ্গত টোটা ও সৃজিতের প্রথম যুগলবন্দী ছিল 'ফেলুদা ফেরত' যা মুক্তি পায় ২০২০ সালে। তবে সিরিজটি হইচই নয় মুক্তি পেয়েছিল আড্ডা টাইমসে। এরপর হইচইয়র জন্য বানান নিজের দ্বিতীয় সিরিজটি। ২০২২ সালে আসে 'ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি'। আর ২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর হইচইয়ে স্ট্রিমিং হচ্ছে 'ফেলুদার গোয়েন্দগিরি: ভূস্বর্গ ভয়ঙ্কর'। 

POST A COMMENT
Advertisement