স্নিগ্ধজিৎ ভৌমিক২২ জানুয়ারি দেশজুড়ে ছিল উৎসবের মরশুম। অযোধ্যায় ৫০০ বছর পর রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা হল। আর এই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন গোটা দেশবাসী। গোটা দেশে যখন রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে ঠিক তখনই ঘটে গেল এক অপ্রীতিকর ঘটনা। ধর্ম বিদ্বেষের শিকার হলেন সারেগামাপা খ্যাত গায় স্নিগ্ধজিৎ ভৌমিক। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন যে গায়ক কতটা রুষ্ট হয়েছেন এই ঘটনায়। কী ঘটেছিল গায়কের সঙ্গে?
শীতের মরশুমে অনেক জায়গাতেই এখন উৎসব-গানের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। ২২ জানুয়ারি স্নিগ্ধজিতের ছিল সেরকমই একটি অনুষ্ঠানে গাওয়ার দিন। মঞ্চে উঠে একের পর এক গান গেয়ে দর্শকদের মাতিয়ে তুলছিলেন গায়ক। কিন্তু বাধ সাধল অরিজিৎ সিংয়ের একটি গান গাইতেই। অরিজিতের অ্যায় খুদা গানটি ধরতেই মঞ্চের সামনে থাকা দর্শকদের চিত্রটা একেবারে বদলে গেল। স্নিগ্ধজিতকে চরম অপমানের মুখে পড়তে হয়। এমনকী স্টেজ থেকে তাঁকে নেমে যেতেও বলা হয়। যা এক শিল্পীর কাছে খুবই অপমানজনক।
সোশ্যাল মিডিয়া পেজে স্নিগ্ধজিৎ গোটা ঘটনাটি সামনে এনেছেন। সেই পোস্টে গায়ক প্রথমে সকলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে লেখেন, সবার দৃষ্টি আকর্ষন করছি। আগেই ক্ষমাপ্রার্থী সবার কাছে। আমায় আজ এসব কথা বলতে হচ্ছে। সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই। এই উক্তিটি কি ভুল হয়ে গেল? শিল্পীর মনে হয় জাত পাত দেখে গান গাওয়া উচিৎ নয়। শিল্পীরা কি হিন্দু মুসলিম দেখে গান গাইবে? তিনি আরও বলেন, শিল্পীর কাছে আল্লাহ-ঈশ্বর-ভগবান কি আলাদা? একই অনুষ্ঠানে আমি আজান দিয়ে "পাল তুলে দে, মন আমার কেমন কেমন করে" গেয়েছি। আবার "হরে কৃষ্ণ হরে রাম"- ও গেয়েছি। সবাই সমান ভাবে আনন্দ করেছে। সব জায়গায় নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সময়ের চেয়ে বেশি পারফর্ম করেছি। সবার আশীর্বাদ ভালোবাসা পেয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত গান গেয়ে বেরিয়েছি। কোনওদিন কোথাও কারোও থেকে কোনও কটুকথা শুনতে হয়নি। অপমান পাইনি। বরং সবাই অনেক বেশি সম্মান ও ভালবাসা দিয়েছে। কিন্তু আজ নিজের খুব লজ্জা লাগছে। ভয় লাগছে । মঞ্চে অরিজিৎ সিং দার অ্যায় খুদা গানটা গাওয়ার জন্য মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলা হল!
স্নিগ্ধজিতের ভক্তরা অবশ্য দর্শকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। বাঙালির অতি প্রিয় শিল্পী তিনি, বুনিয়াদপুরের এই ছেলে গোটা দেশে বাংলার নাম উজ্জ্বল করেছেন। সারেগামাপা-র মঞ্চ কাঁপানো উত্তরবঙ্গের এই ছেলে ইতিমধ্যেই প্লেব্যাক করেছেন হৃতিক রোশনের জন্য। দেশ-বিদেশে ইতিমধ্যেই তাঁর কনসার্ট দারুণভাবে জনপ্রিয়। অথচ মঞ্চে চরম অপমানের মুখে পড়তে হল তাঁকে স্রেফ ‘খুদা’র নাম উচ্চারণ করায়।